সোমবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১১

সবাইকে মুসলিম বলে পরিচয় দিতে হবে


প্রশ্নঃ       জনৈক আলেম বলেন , হানাফী , শাফেয়ী , মালেকী আহলে হাদীস বলে কাউকে পরিচয় দেওয়া উচিত নয় ; বরং সবাইকে মুসলিম বলে পরিচয় দিতে হবে । উক্ত দাবী কি সঠিক ?

উত্তরঃ      সবাই মুসলিম বলে পরিচয় দিলে কোন সমস্যা নেই । দাওয়াতী ক্ষেত্রে এটি বেশ কার্যকরী । কিন্তু যেহেতু মাযহাবী পরিচয় দিয়ে বহু বিদ‘আদকে সমাজে চালু রাখা হয়েছে । সেহেতু সহীহ হাদীসের অনুসারী হিসেবে ‘আহলুল হাদীস’ নামটি বৈশিষ্ট্যগত পরিচিতি হিসাবে বলা হয়ে থাকে । কারণ আহলুল হাদীস মুসলিমগণই হচ্ছেন একমাত্র হক্বপন্থী দল । ক্বিয়ামত পর্যন্ত একটি দল হক্বের উপরে দৃঢ় থাকবে মর্মে যে সকল সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে (সহীহ মুসলিম হা/১৯২০ , সহীহ তিরমিযী হা/২২২৯) সে দল সম্পর্কে মুহাদ্দিছগণের বক্তব্য হলো – তারা হলেন ‘আহলুল হাদীস’ ।
উক্ত হক্বপন্থী দল কোনটি এর ব্যাখ্যায় ইয়াযীদ ইবনু হারুন বলেন , তারা যদি আহলুল হাদীস গণ না হন তাহলে আমি জানি না তারা কারা । ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলও একই কথা বলেছেন । আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারাক বলেন , আমার নিকট এ হক্বপন্থী দলটি হচ্ছে আহলুল হাদীস । উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় আলী ইবনুল মাদীনী ও ইমাম বুখারী একই কথা বলেন । (দ্রঃ সিলসিলাহ সহীহাহ হা/২৭০-এর ব্যাখ্যা) । অতএব যারাই সহীহ দলীল ভিত্তিক নিজেদের সার্বিক জীবন পরিচালনা করে তারাই আহলে হাদীস । এটি বিদ’আতীদের থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্যগত স্বাতন্ত্রের পরিচয় মাত্র । যেমন কুরআনে মুহাজির ও আনছারদের স্ব স্ব বৈশিষ্ট্যগত নামে প্রশংসা করা হয়েছে (তওবা - ১০০) । যদিও তারা উভয় দলই ‘মুসলিম’ ছিলেন ।

‘যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাবে


প্রশ্নঃ       অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে এস জনৈক বুজুর্গ বলেন ,‘যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাবে সে শহীদ হয়ে যাবে , কবরের শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে এবং সকাল-সন্ধা তাকে জান্নাতের রিজিক দেয়া হবে ।’ উক্ত হাদীসের সনদ সম্পর্কে জানতে চাই ?

উত্তরঃ      বর্ণনাটি জাল(যঈফ ইবনে মাজাহ হা/১৬৫১ ; সিলসিলাহ যঈফাহ হা/৪৬৬১) ।

উলুল আমর বলতে কাকে বুঝানো হয়েছে ?


প্রশ্নঃ       আল্লাহ তায়ালা বলেন , ‘তোমরা আল্লাহ , তাঁর রাসূল ও উলুল আমরের আনূগত্য কর ।’ উলুল আমর বলতে কাকে বুঝানো হয়েছে ? তারা কি একাধিক হবেন ?

উত্তরঃ      এর দ্বারা ইসলামী রাষ্ট্রের ও ইসলামী সংগঠনের মুহাদ্দিছ-আমীর , ফক্বীহ ও মুত্তাকী আলেম গণকে বুঝানো হয়েছে । যারা আল্লাহর আনুগত্য এবং তার নবীর সহীহ সুন্নাহ মোতাবেক মানুষকে সৎ পখে চলার আদেশ দেন তারাই উলুল আমরের অন্তর্ভূক্ত (তাফসীরে ইবনে কাছীর , সূরা নিসা – ৫৯ দ্রঃ) ।

কাতারের মাঝখানে পিলার বা দেওয়াল


প্রশ্নঃ       কাতারের মাঝখানে পিলার বা দেওয়াল রেখে সালাত আদায় করা যাবে কি ?

উত্তরঃ      যাবে না । কারণ রাসূল (সাঃ) এতে নিষেধ করেছেন (সহীহ ইবনু মাজাহ হা/১০০২) । তবে লোক সমাগম বেশি হওয়ার কারণে স্থান সংকুলান না হলে বাধ্য হয়ে দাঁড়ানো যেতে পারে (সহীহ তিরমিযী হা/২২৯ , সনদ সহীহ) । উল্লেখ্য , পিলারের মাঝে কেউ একাকী সালাত আদায় করলে অথবা ইমাম একা দাঁড়ালে কোন সমস্যা নেই ।

বর্তমান শতাব্দীর মুজাদ্দিদ কে ?


প্রশ্নঃ       আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক হিজরী শতাব্দীর শুরুতে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করেন । যিনি দ্বীনের সংস্কার করবেন (আবু দাউদ) । হাদীসটি কি সহীহ ? বর্তমান শতাব্দীর মুজাদ্দিদ কে ?

উত্তরঃ      হাদীসটি সহীহ (আবু দাউদ হা/৪২৯১ ; মিশকাত হা/২৪৭ ‘ইলম’ অধ্যায়) । বর্তমান শতাব্দীর মুজাদ্দিদ কে হবেন বা হয়েছেন , তা এখনও স্পষ্ট নয় । আল্লাহ তায়ালাই ভাল জানেন । তবে বিগত শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হিসাবে শায়খ আলবানীকে ধরা হয়ে থাকে ।

একই সালাতে দুই বারের বেশী তাশাহহুদ পড়া যাবে কি ?


প্রশ্নঃ       মাগরীব সালাতে মাসবুক মুছল্লি ইমামকে তাশাহহুদ অবস্থায় পেলে সে কি করবে ? একই সালাতে দুই বারের বেশী তাশাহহুদ পড়া যাবে কি ?

উত্তরঃ      শুধু মাগরীব নয় যে কোন সালাতে মাসবুক মুছল্লি ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সে অবস্থায় সালাতে শরীক হবে এবং যা ছুটে যাবে তা পূর্ণ করবে (বুখরী হা/৬৩৬ ; মুসলিম হা/৬০২) ।দু’রাকা‘আত সালাত আদায় করে তাশাহহুদ পড়তে হয় । অতএব শেষ তাশাহহুদ পাওয়ার কারণে মাসবুকের তিনটি তাশাহহুদ হয়ে যাবে । এতে সালাতের কোন ক্ষতি হবেনা । বরং সে সালাতে যোগদানের নেকী পাবে ।

বারবার তওবা করে বারবার গুনাহে লিপ্ত


প্রশ্নঃ       বারবার তওবা করে বারবার গুনাহে লিপ্ত হলে তওবা কবুল হবে কি ?

উত্তরঃ      বারবার তওবা করেও যদি কেউ একই গুনাহে জড়িত হয় তাহলে মনে করতে হবে যে , তার তওবা শর্ত মাফিক হচ্ছে না । এর পরেও তওবার দরজা আল্লাহ খুলে রেখেছেন । বান্দা যতই গোনাহ করুক অনুতপ্ত হয়ে পুনরায় সেই পাপ করবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে তওবা করলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন , ‘আল্লাহ তার বান্দার তওবা কবুল করেন তার মৃত্যু লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া পর্য্ ন্ত’ (তিরমিযী , ইবনু মাজাহ , মিশকাত হা/২৩৪৩ ‘দোয়া সমূহ’ অধ্যায় ‘তওবা ও ইস্তিগফার’ অনুচ্ছেদ ৪) । তবে তওবার নামে কেউ প্রতারণা করলে আল্লাহ তার ব্যবস্থা নিবেন । তিনি কিয়ামতের দিন মানুষের হৃদয় ও কর্ম উভয়টির ‍দিকে দৃষ্টি ‍দিবেন (মুসলিম হা/২৫৬৪ ; মিশকাত হা/৫৩১৪ ‘রিক্বাক্ব’ অধ্যায় ‘রিয়া’ অনুচ্ছেদ ৫) ।

রবিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১১

মদ খেয়ে ইবাদাত করলে ইবাদাত কবুল হবে কি ?


প্রশ্নঃ       মদ খেয়ে ইবাদাত করলে ইবাদাত কবুল হবে কি ?

উত্তরঃ      মদ পান কারীর চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না । সে যদি এ অবস্থায় মারা যায় তাহলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে । (সহীহ ইবনে মাজাহ হা/৩৩৭৭) । তওবা ব্যতীত তার গোনাহ মাফ হবে না (যুমার-৫৩) ।

নগদ ও বাকী বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মূল্যের কমবেশী


প্রশ্নঃ       রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একই পণ্যে দুই ধরনের ব্যবসা নিষেধ করেছেন । এক্ষণে নগদ ও বাকী বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মূল্যের কমবেশী করা যাবে কি ?

উত্তরঃ      উক্ত প্রশ্ন সঠিক হয়নি । বরং একই কেনা-বেচার মধ্যে দু’টি শর্ত নিষেধ করা হয়েছে ( সহীহ তিরমিযী হা/১২৩৪ ; সহীহ আবু দাউদ হা/৩৫০৪) । ফলে একই পণ্যে নগদে এক মূল্য আর বাকীতে এক মূল্য পৃথক করা থাকলে তাতে কোন সমস্যা নেই । কারণ এরুপ ক্রয়-বিক্রয় একই বেচা-কেনার মধ্যে শামিল নয় । 

এই ব্যবসা কি জায়েয ?


প্রশ্নঃ       সোনার ব্যবসার নাম করে বিভিন্ন জনের নিকট ২২০০০০ টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে । এই শর্তে যে , মাসিক ৪৬০০০ টাকা করে দশ মাস প্রদান করে ৪৬০০০০ টাকা লভ্যাংশ সহ মূল টাকা পরিশোধ করা হবে । এই ব্যবসা কি জায়েয ?

উত্তরঃ      এগুলো ব্যবসার নামে স্পষ্ট সূদী কারবার , যা হারাম (মুসলিম , মিশকাত হা/২৮০৭) । এটা এক প্রকার প্রতারণা , যা রাসূল (সাঃ) নিষেধ করেছেন (মুসলিম , মিশকাত হা/৩৫২০) ।

পুনরায় আযান


প্রশ্নঃ       একই মসজিদে কোন ওয়াক্তে একজন আযান দিল এবং প্রয়োজনে সে বাইরে গেল । এই ফাঁকে আরেকজন এসে পুনরায় আযান দিল । এক্ষণে করণীয় কি ?

উত্তরঃ      এতে করণীয় কিছু নেই । কারণ সে না জেনে দিয়েছে । উভয়ে নেকী পাবে । তবে কোন এক সালাতের জন্য একবার আযান হওয়াই সুন্নাত ।

ঈদগাহে একাধিক জামা‘আত করা যাবে কি ?


প্রশ্নঃ       জায়গা সংকুলান না হ’লে একই ঈদগাহে একাধিক জামা‘আত করা যাবে কি ?

উত্তরঃ      একই ঈদগাহে একাধিক জামা‘আত করা যাবে না । জায়গা সংকুলান না হ’লে ঈদের মাঠ বড় করে অথবা অন্য কোন খোলা ময়দানে একই স্থানে ঐক্যবদ্ধভাবে সালাত আদায় করবে । রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম একই মাঠে একাধিকবার ঈদের জামা‘আত করেছেন , মর্মে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না । এক মাঠে একাধিক জামা‘আত হ’লে নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো দেখা দিবেঃ
(১)  যারা পরে পড়বে তারা সঠিক সময়ে পড়তে পারবে না । অথচ নবী করীম (সাঃ) সূর্য উঠার পর পরই সালাত আদায় করতেন (ইবনে মাজাহ হা/১৩১৭ ; আবু দাউদ হা/১০৪০) ।
(২)  জামা‘আত চলাকালীন পরের জামা‘আতের আশায় দাঁড়িয়ে থাকবে যা সুন্নাতের বরখেলাফ ।
(৩)  বড় জামা‘আতের নেকী হতে বঞ্চিত হবে ।
(৪)  আগে ও পরে পড়া নিয়ে দ্বন্দ্ব হবে ।
(৫)  সুন্নাত অনুযায়ী দীর্ঘ খুৎবা দেওয়ার সুযোগ হবে না ।

উক্ত ব্যবসা কি বৈধ ?


প্রশ্নঃ       অধিকাংশ স্বর্ণ ব্যবসায়ী গহনা তৈরির সময় মূল স্বর্ণের সাথে অন্য ধাতু মিশ্রণ করে স্বর্ণের দামে বিক্রি করে । উক্ত ব্যবসা কি বৈধ ?

উত্তরঃ      ক্রেতাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য কেউ এমনটি করলে এই ব্যবসা অবশ্যই হারাম হবে । আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন , রাসূল (সাঃ) প্রতারণার মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন ( মুসলিম , মিশকাত হা/২৮৫৫) । পক্ষান্তরে খাদ মিশিয়ে গহনা বানালে এবং সে হিসেবে দাম কম নিলে ও ক্রেতাকে সেটা জানিয়ে দিলে সেটা ধোঁকা হবে না ।

এজন্য তিনি গোনাহগার হবেন কি ?


প্রশ্নঃ       আমার বন্ধু একজন সরকারী কর্মচারী । সরকারী নির্দেশমতে তাকে মন্দির ও মাজারে ব্লিচিং পাউডার ছড়াতে হয় । শিরকের কেন্দ্রে এসব কাজ করতে তার ঈমান বাধা দেয় । কিন্তু বাধ্য হয়ে করেন । এজন্য তিনি গোনাহগার হবেন কি ?

উত্তরঃ      পাপের কাজে সাহায্য করা অবশ্যই পাপ । আল্লাহ বলেন , ‘তোমরা সৎকর্মে ও আল্লাহভীরুতার কাজে পরস্পরকে সাহায্য কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে সাহয্য করো না’ (মায়েদাহ-২) । তবে এ কাজে তার বিবেকে বাধা দেয়াটা ঈমানের পরিচয় । তাকে দ্রুত এ চাকরী ছেড়ে অন্য কোন নিরাপদ ও হালাল পেশা গ্রহন করতে হবে । নইলে এক সময় তার অন্তরে পাপের অনুভূতিটুকুও নষ্ট হয়ে যাবে । যা তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে । আল্লাহ বলেন , ‘হে ঈমানদারগণ ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক’ (তওবা-১১৯) ।

সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১১

সূরা তওবার ৭৫ ও ৭৬ নং আয়াতদ্বয়


প্রশ্নঃ       সূরা তওবার ৭৫ ও ৭৬ নং আয়াতদ্বয় কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে ?

উত্তরঃ      অনুবাদঃ- ‘আর তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে , যারা আল্লাহর নিকট ওয়াদা করে যে , আল্লাহ যদি আমাদের উপর অনুগ্রহ করেন , তবে আমরা দান-খয়রাত করব ও নেককার লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব’ ( তওবা-৭৫ ) । ‘অতপর যখন আল্লাহ তাদেরকে অনুগ্রহ করলেন , তখন তারা তাতে কার্পণ্য করতে লাগলো এবং হঠকারিতার সাথে বিমুখতা অবলম্বন করল’ ( তওবা-৭৬) । উক্ত আয়াতের শানে নুযুল প্রসঙ্গে বলা হয় যে , ছালাবা (রাঃ) –এর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত আয়াত নাযিল হয়েছে । ইবনু কাছীর (রহঃ) উক্ত ঘটনাটি বর্ননা করেছেন কোনরুপ মন্তব্য ছাড়াই । প্রকৃত প্রস্তাবে উক্ত ঘটনা সঠিক নয় । ইমাম কুরতুবী সহ অন্যান্য বহু মুফাসসির এই ঘটনা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন । ( তাফসীরে কুরতুবী ৮/২১১ পৃঃ , উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ ; আলবানী , সিলসিলাহ যঈফাহ হা/১৬০৭) । তাছাড়া ঐ নামে দু’জন ব্যক্তি ছিলেন । একজন বদরী সাহাবী , যিনি ওহোদ যুদ্ধে শহীদ হন । তার নামে উক্ত কৃপণতা ও রাসূলের অবাধ্যতার ঘটনা ডাহা মিথ্যা ও বানোয়াট ছাড়া কিছুই নয় । অন্য জনের নামে হলে সেটার সূত্র অত্যন্ত যঈফ । যদিও ইবনু জারীর ও ইবনু কাছীর স্ব-স্ব তাফসীরে ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন । ( তাফসীরে এবনু কাছীর , উক্ত আয়াতের টীকা দ্রষ্টব্য) ।

বিড়ি , সিগারেট , জর্দা , গুল , হিরোইণ --এগুলো খেলে সালাত কবুল হবে কি ?


প্রশ্নঃ       বিড়ি , সিগারেট , জর্দা , গুল , হিরোইণ হারাম বস্তু । এগুলো খেলে সালাত কবুল হবে কি ?

উত্তরঃ      এগুলো মাদকের অন্তর্ভুক্ত এবং হারাম বস্তু । রাসূল (সাঃ) বলেন , ‘যার বেশীতে মাদকতা আসে , তার অল্পটাও হারাম (তিরমিযী , আবু দাউদ , ইবনু মাজাহ , মিশকাত হা/৩৬৪৫ দন্ডবিধি অধ্যায় মদ্যপান অনুচ্ছেদ) । আল্লাহ তায়ালা বলেন , পবিত্র বস্তু তাদের জন্য হালাল করা হয়েছে এবং অপবিত্র বস্তু হারাম করা হয়েছে (আ’রাফ/১৫৭) । আল্লাহ পবিত্র । তিনি পবিত্র বস্তু ভিন্ন কবুল করেন না’ ( মুসলিম , মিশকাত হা/২৭৬০ হালাল উপার্জন অনুচ্ছেদ) । অতএব এসব অপবিত্র বস্তু খেলে তওবা না করা পর্য্ ন্ত কিভাবে সালাত কবুল হবে ।

মাসিক অবস্থায় মেয়েরা মুখস্ত কুরআন তেলাওয়াত করতে পারবে না ।


প্রশ্নঃ       এনটিভির প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে মাসিক অবস্থায় মেয়েরা মুখস্ত কুরআন তেলাওয়াত করতে পারবে না । তবে দোয়া দরুদ পড়তে পারবে । উক্ত ফয়সালা কি সঠিক হয়েছে ?

উত্তরঃ      উক্ত ফয়সালা সঠিক হয়নি । কারণ ঋতু অবস্থায় সালাত আদায় করা ও ত্বাওয়াফ করা যায় না (বুখারী হা/৩০৫-৬) । ইবনে আব্বাস (রাঃ) অপবিত্র ব্যক্তির জন্য কুরআন পাঠ করাকে কোর দোষের কাজ মনে করতেন না । নবী করীম (সাঃ) সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করতেন । (বুখারী ঋতু অধ্যায় , ঋতুবতী নারী ত্বাওয়াফ ব্যতীত হজ্জের যাবতীয় বিধান পালন করবে, অনুচ্ছেদ – ৭) । অতএব স্পর্শ না করে জুনুবী অবস্থায় মুখস্ত কুরআন পড়তে পারবে । উল্লেখ্য যে , ঋতুবতী এবং জুনুবী কুরআন পড়তে পারে না মর্মে বর্ণিত হাদীসটি মুনকার ও বাতিল (আলবনী , তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/৪৬১) ।

সম্মিলিত মুনাজাত


প্রশ্নঃ       কোন কোন জায়গায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সম্মিলিত মুনাজাত করেছেন ?

উত্তরঃ      বৃষ্টির পানি চাওয়ার জন্য ও কুনুতে নাযেলার সময় ইমাম ও মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দোয়া করেছেন ( আবু দাউদ , মিশকাত হা/১৫০৮ ; আলবানী , ছিফাতু সালাতিন নাবী পৃঃ১৫৯ ) ।

রবিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১১

নূহ (আঃ) –এর প্লাবনের সময় এক বুড়ি তাঁকে বলেছিলেন


প্রশ্নঃ       জনৈক আলেম বলেন , নূহ (আঃ) –এর প্লাবনের সময় এক বুড়ি তাঁকে বলেছিলেন , প্লাবনের পূর্ব মুহুর্তে আমাকে খবর দিবেন । কিন্তু নুহ (আঃ) তাকে বলতে ভুলে যান । প্লাবনের পর দেখা গেল উক্ত বুড়ি বেঁচে আছেন । এ ঘটনা কি সত্য ?

উত্তরঃ      উক্ত ঘটনা মিথ্যা ও বানোয়াট ।

এসব দরুদ পড়া কি জায়েজ ?


প্রশ্নঃ       আমাদের এলাকায় প্রায় মসজিদের ইমামগণ সালাত শেষে মুছল্লিদেরকে নিয়ে গোল হয়ে বসেন । বিভিন্ন রকমের দরুদ পড়ে থাকেন । যেমন – বালাগুল উলা , ছাল্লাল্লাহু , ইয়া মুহাম্মাদ , ইয়া রাসূলুল্লাহ , ইয়া হাবীবাল্লাহ ইত্যাদি । এসব দরুদ পড়া কি জায়েজ ?

উত্তরঃ      এসব দরুদ সুন্নাত বিরোধী যা পড়লে নেকীর স্থানে গুনাহ হবে । একদা সাহাবীগণ বলেন , হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ! আল্লাহ আমাদেরকে আপনার উপর সালাত ও সালাম দিতে নির্দেশ দিয়েছেন । আপনার উপর কিভাবে সালাত পড়বো ? তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন , তোমরা বল ‘আল্লাহুম্মা ছল্লি আলা……….’(মুত্তাফাক্ব আলাইহ , মিশকাত হা/৯১৯) । অর্থাৎ দরুদে ইব্রাহীম । আর এভাবে গোল হয়ে বসে বিভিন্ন জিকির করার বিরুদ্ধে ইবনু মাসউদ (রাঃ) –এর কঠিন ধমকিপূর্ণ হাদীসটি অতি প্রসিদ্ধ (দারেমী হা/২০৪ , সনদ সহীহ) । 

কোন বিষয়ে আল্লাহর কাছে বিচারদেওয়া


প্রশ্নঃ       কোন বিষয়ে আল্লাহর কাছে বিচার দেওয়ার পর পুনরায় সে বিষয়ে মানুষের কাছে বিচার চাওয়া যাবে কি ?

উত্তরঃ            এমতাবস্থায় অন্যের কাছে বিচার না চাওয়াই ভালো । কারণ যারা সঠিক পথে তাদের পক্ষ থেকে ফেরেস্তারা প্রতিবাদ করেন । আর সঠিক পথের ব্যক্তি যদি প্রতিবাদ করতে যায় তাহ’লে ফেরেস্তারা সরে যান (আহমাদ , মিশকাত হা/৫১০২ ; সনদ সহীহ , সিলসিলাহ সহীহাহ হা/২২৩১) । অন্য হাদীসে এসেছে , আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন , একজন লোক বলল , হে আল্লাহর রাসূল  (সাঃ) ! আমার কিছু প্রতিবেশী রয়েছে । আমি তাদের সাথে সদাচরণ করি । কিন্তু তারা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে । আমি তাদের সাথে ভাল আচরণ করি । কিন্তু তারা আমার সাথে মন্দ আচরণ করে । আমি তাদের সাথে নরম ও ধৈর্য্ শীল হতে চাই । কিন্তু তারা আমার সাথে রুক্ষতা প্রকাশ করে । জবাবে নবী করীম (সাঃ) বলেন , তুমি যেমন বলছ বিষয়টি যদি এমন হয় , তাহ’লে তুমি তাদের মুখে ছাই নিক্ষেপ করছ । আর সর্বদা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য সহযোগী থাকবে তুমি যতদিন এ নীতি অবলম্বন করবে (মুসলিম , মিশকাত হা/৪৯২৪) । তবে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হলে সক্ষম অবস্থায় অন্যায়ের প্রতিরোধ করবে (মুসলিম , মিশকাত হা/১৫৭;৫১৩৭) । অন্যথায় পূর্বোক্ত নীতি অবলম্বন করবে ।

মসজিদের মাইকে আযান


প্রশ্নঃ       মসজিদের মাইকে আযান ব্যতীত অন্য কোন ঘোষণা দেয়া যাবে কি ? যেমন মৃত সংবাদ , হারানো বিজ্ঞপ্তি , সরকরী ঘোষণা চিকিৎসার ঘোষণা ইত্যাদি ।

উত্তরঃ            মসজিদে আযান ব্যতীত অন্য কোন ঘোষণা না দেওয়াই উচিত । যেমন হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা যাবে না । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন , ‘কেউ মসজিদে হারানো বিজ্ঞপ্তি শুনলে সে যেন বলে আল্লাহ যেন তোমাকে জিনিসটি ফেরত না দেন । কারণ মসজিদ এ কাজের জন্য বানানো হয়নি ।’ (বুখারী , মুসলিম , মিশকাত হা/৭০৬) । অনুরুপ , মৃত সংবাদও প্রচার করতে রাসূল (সাঃ) নিষেধ করেছেন (সহীহ তিরমিযী হা/৯৮৬) । সরকারী ঘোষণা ও চিকিৎসার ঘোষণার সাথে মসজিদের কোন সম্পর্ক নেই ।