ওজু-গোসল-পবিত্রতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ওজু-গোসল-পবিত্রতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২ মার্চ, ২০১২

গোসলের সময় পুরুষরা বক্ষ, পেট-পিঠ খোলা রাখতে পারবে কি?

প্রশ্ন  : পুরুষের সতরের সীমা কতটুকু? গোসলের সময় পুরুষরা বক্ষ, পেট-পিঠ খোলা রাখতে পারবে কি?

উত্তর : পুরুষের সতর নাভী হতে হাটু পর্যন্ত। তবে ছালাত আদায়কালীন সময়ে দুই কাঁধ ও নাভী হতে হাটু পর্যন্ত (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৭৫৫; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), ৪৫ পৃঃ)। অবশ্য গোসলের সময় পুরুষরা উল্লেখিত অঙ্গ খোলা রাখতে পারে (বুখারী হা/২৭৮)। তবে পর্দার আড়ালে গোসল করা উত্তম। ইয়ালা ইবনু মুররা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) খোলা স্থানে এক ব্যক্তিকে গোসল করতে দেখলেন। তিনি এই দৃশ্য দেখে মসজিদের মিম্বারে উঠে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর বললেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ লজ্জাশীল ও পর্দাকারী। তিনি লজ্জা ও পর্দা করাকে ভালবাসেন। অতএব যখন তোমাদের কেউ গোসল করে, তখন সে যেন পর্দা করে
(আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৪৭, হাদীছ ছহীহ)

বুধবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ওযূ না করে শুধু গোসল করার পর ছালাত আদায় করা


প্রশ্ন  : জনৈক ইমাম বলেছেন, ওযূ না করে শুধু গোসল করার পর ছালাত আদায় করা যাবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?

উত্তর : ওযূ না করে গোসল করলে ঐ গোসলের পর ছালাত আদায় করা যাবে না। কারণ ছালাতের জন্য ওযূ শর্ত। আর ওযূর জন্য নিয়ত শর্ত। সুতরাং এজন্য গোসলের পূর্বে ওযূ করে নিতে হবে (নাসাঈ, মিশকাত হা/৪৪৫)

মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ওযূ করার পর স্ত্রীকে স্পর্শ করলে ওযূ বা ছিয়াম ভঙ্গ হবে কি?

প্রশ্ন  :  ওযূ করার পর স্ত্রীকে স্পর্শ করলে ওযূ বা ছিয়াম ভঙ্গ হবে কি?

উত্তর : ওযূ করার পর স্ত্রীকে স্পর্শ করলে
মযী নির্গত হলে ওযূ ভঙ্গ হবে। তবে ছিয়াম ভঙ্গ হয় না। আর মযী নির্গত না হলে ওযূ ভঙ্গ হবে না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) কখনো কোন স্ত্রীকে চুম্বন করতেন এবং ওযূ না করেই ছালাতে বের হতেন (আবুদাঊদ হা/১৭৯; মিশকাত হা/৩২৩)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি ছিয়াম অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করতেন (মুসলিম হা/২৬২৮; মিশকাত হা/২০০০)। তবে রাসূল (ছাঃ) নিজেকে সর্বাধিক নিয়ন্ত্রনকারী ব্যক্তি ছিলেন (মুসলিম, মিশকাত হা/২০০০)

সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ওযূ থাকা অবস্থায় অসুস্থ মাকে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে

প্রশ্ন  : ওযূ থাকা অবস্থায় অসুস্থ মাকে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে অনেক সময় হাতে পেশাব-পায়খানা লেগে যায়। এমতাবস্থায় পুনরায় ওযূ করতে হবে কি? না শুধু হাত ধৌত করলেই চলবে?
 
উত্তর : ওযূ অবস্থায় শরীরে কোন নাপাকী লাগলে ওযূ ভঙ্গ হয় না। যে অংশে নাপাকী লাগবে ঐ অংশটুকু ধুয়ে নিলেই চলবে (আবুদাঊদ হা/৩৭৬; মিশকাত হা/৫০২)

শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১২

হাঁস-মুরগী ইত্যাদির পেশাব-পায়খানা কাপড়ে লাগলে


প্রশ্ন  : উট, গরু, ছাগল, মহিষ, দুম্বা, ভেড়া, হাঁস-মুরগী ইত্যাদির পেশাব-পায়খানা কাপড়ে লাগলে সেই কাপড়ে ছালাত হবে কি? আলেমদের মাঝে এ নিয়ে নানা মত রয়েছে। সঠিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে বাধিত করবেন।
 
উত্তর : যে সকল প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল সেগুলোর পেশাব-পায়খানা নাপাক নয়। সুতরাং কাপড়ে এ সব প্রাণীর মলমূত্র লাগলেও তা পরিধান করে ছালাত আদায় করা বৈধ। আনাস (রাঃ) বলেন, উরায়না গোত্রের কিছু নওমুসলিম মদীনায় অবস্থানকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূল (ছাঃ) তাদেরকে উটের পালে যেয়ে তার দুধ ও পেশাব পান করতে নির্দেশ দেন (বুখারী হা/৫৬৮৬; মুসলিম হা/৪৪৪৫)। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) ছাগল বাঁধার স্থানে ছালাত আদায় করতেন (বুখারী হা/৪১৯; মুসলিম হা/১২০২)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ছাগল বাঁধার স্থানে ছালাত আদায় করা যাবে কি-না রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সেখানে ছালাত আদায়ের নির্দেশ দেন (মুসলিম হা/৮২৮)
ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ বলেন, ছাহাবীগণের মধ্যে একজনও একে নাপাক বলেননি। বরং এগুলিকে নাপাক বলাটাই
নতুন কথা (قول محدث) (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২১)।

রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১২

ওযূ করার সময় ক্বিবলামুখী হয়ে


প্রশ্নঃ  : জনৈক আলেম তার ছালাত শিক্ষা বইয়ে লিখেছেন, ওযূ করার সময় ক্বিবলামুখী হয়ে বসতে হবে এবং উঁচু স্থানে বসতে হবে। উক্ত মর্মে কোন দলীল আছে কি?

উত্তর : উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন ও বানাওয়াট।

লাগাতার মাসিক হ’লে তার জন্য করণীয় কী?


প্রশ্ন  : কোন এক মাসে কোন মহিলার লাগাতার মাসিক হলে তার জন্য করণীয় কী? সে কি ছালাত ছেড়ে দিবে এবং ছিয়াম ক্বাযা করবে?

উত্তর : পূর্বের মাসগুলোতে নির্দিষ্ট যে কয়দিন মাসিক হয়েছে সেই কয়দিন মাসিক বলে গণ্য হবে। তার অতিরিক্ত দিনগুলো অসুখ বা
মুস্তাহাযা বলে গণ্য হবে। সুতরাং নির্ধারিত মাসিকের পরের দিনগুলোতে ছালাত ও ছিয়াম আদায় করতে পারবে। প্রকাশ থাকে যে, রক্তের রং হয় কালো গাঢ় এবং ইস্তেহাযার রং হয় হলদে পাতলা। হাদীছে এক্ষেত্রে ৪টি নিয়ম পাওয়া যায়- (১) যদি প্রথমবারেই লাগাতার মাসিক হয় এবং প্রবাহিত মাসিকে উভয় রঙের পার্থক্য বুঝা যায়। এক্ষেত্রে তার হুকুম এই যে, যে কয়দিন কালো রক্ত দেখতে পাবে, সে কয়দিন ছালাত পরিত্যাগ করবে। তারপর সময় পার হলে গোসল করে নিবে এবং ছালাত সহ সব কাজ করবে (আবূদাঊদ হা/২৮৬; নাসাঈ হা/৩৬১)। (২) ইতিপূর্বে মাসিকের যে নিয়ম ছিল, সে কয়দিন মাসিক মনে করে ছালাত ছেড়ে দিবে। অতঃপর উক্ত সময় পার হয়ে গেলে গোসল করে নিয়ে ছালাতসহ সব আমল করবে (বুখারী হা/৩২৫; আবুদাঊদ হা/২৮১)। (৩) রক্তের রঙ কালো না হলদে তা পার্থক্য না করা গেলে ঐ মহিলা তার বংশের মহিলাদের মাসিকের অনুসরণ করবে (আহমাদ, আবূদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৫৬১)। (৪) আর তার মাসিকে পার্থক্য নির্ণয় করা গেলে নিয়ম মোতাবেক আমল করবে (মিরআতুল মাফাতীহ ২/২৬৬ পৃঃ)। সুতরাং প্রশ্নকারীনী উপরোক্ত ৪টি নিয়ম থেকে নিজের অবস্থা অনুযায়ী যে কোনটির অনুসরণ করবে।