কুরআন-হাদীস-তাফসীর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কুরআন-হাদীস-তাফসীর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২ এপ্রিল, ২০১২

‘দুই পূর্ব এবং দুই পশ্চিমের রব’

প্রশ্ন  : সূরা রহমানে আল্লাহ বলেন, দুই পূর্ব এবং দুই পশ্চিমের রব। আমরা জানি, পূর্ব এবং পশ্চিম একটি করে। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তরঃ পবিত্র কুরআনে উক্ত শব্দদ্বয় বহুবচনেও এসেছে। যেমন
রাববুল মাশারিক্ব অনেক পূর্বের রব (ছাফফাত ৫; মাআরিজ ৪০)। তাতে বুঝানো হয়েছে যে, সূর্য বছরের ৩৬০ দিনে নির্ধারিত একটি মাত্র স্থান হতে উদিত হয় না। এর দ্বারা সূর্যের গতিশীলতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা সৌর বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সূর্য প্রতিদিন পরিবর্তিত স্থান হতে উদিত হয়। সূরা রহমানে যে দ্বিবচন ব্যবহার করা হয়েছে তার দ্বারা সূর্য গ্রীষ্মকালে উত্তর-পূর্ব এবং শীতকালে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে উদয়াস্তের কথা বুঝানো হয়েছে (তাফসীরে ফাৎহুল ক্বাদীর, সূরা ছাফফাত ৫)

মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ, ২০১২

নিয়ামুল কুরআন ও মকছূদুল মুমিনীন বই দু’টি কি নির্ভরযোগ্য?

প্রশ্ন  : নিয়ামুল কুরআন ও মকছূদুল মুমিনীন বই দুটি কি নির্ভরযোগ্য? এগুলি পড়ে আমল করা যাবে কি?

উত্তর :
 মোটেই নির্ভরযোগ্য নয়। এ সমস্ত বই ক্রয় করা যাবে না, পড়াও যাবে না। কারণ নিয়ামুল কুরআনে এমন কিছু কল্পিত দরূদ আছে যেগুলো পড়লে শিরক হবে। অনুরূপভাবে মকছুদুল মুমিনীন বইটি জাল, যঈফ, মিথ্যা ও বানোয়াট কাহিনীতে ভরপুর।

‘আমি জ্ঞানের শহর আর আলী তার দরজা’।

প্রশ্ন  : জনৈক অধ্যাপক বলেন, ছাহাবীগণের মধ্যে আলী (রাঃ) সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, আমি জ্ঞানের শহর আর আলী তার দরজা। বক্তব্যটি কি সঠিক?
 
উত্তর : বর্ণনাটি জাল বা বানোয়াট (যঈফ তিরমিযী হা/৩৭২৩; মিশকাত হা/৬০৮৭; যঈফুল জামে হা/১৩১৩)

সোমবার, ২৬ মার্চ, ২০১২

মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা কী দ্বারা সৃষ্টি করেছেন?

প্রশ্নঃ  : মানুষকে আল্লাহ তাআলা কী দ্বারা সৃষ্টি করেছেন? কোন আয়াতে এসেছে পানি দ্বারা (ফুরক্বান ৫৪)। আবার কোন আয়াতে এসেছে, মাটি দ্বারা (ত্বোয়াহা ৫৫; রহমান ১৪)। সঠিক সমাধান দানে বাধিত করবেন।

উত্তর : মানুষকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। সূরা ফুরক্বানে যেখানে মানুষকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করার কথা বলা হয়েছে তার অর্থ বীর্য (ইবনু কাছীর)। প্রকৃতপক্ষে তা তৈরী হয়েছে মাটি হ
তে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যের নির্যাস হতে।

শনিবার, ২৪ মার্চ, ২০১২

যঈফ হাদীছের উপর আমল করা যাবে না।

প্রশ্ন  : যঈফ হাদীছ তো সন্দেহযুক্ত। তাই যঈফ হাদীছের উপর আমল করা যাবে না। কিন্তু ইমাম তিরমিযী, আবুদাঊদ প্রমুখ তাদের স্ব স্ব গ্রন্থে যঈফ হাদীছ উল্লেখ করেছেন। কেউ যদি তা দেখে যঈফ হাদীছের উপর আমল করে তবে দায়ী কে হবে? কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে যঈফ হাদীছের উপর আমল করা যায়?
 
উত্তর : ইমাম তিরমিযী, আবুদাঊদ প্রমুখ মুহাদ্দিছগণ স্ব স্ব গ্রন্থে যে সমস্ত যঈফ হাদীছ উল্লেখ করেছেন এবং যঈফ বলে অভিহিত করেছেন সেগুলো মূলতঃ জনসাধারণকে যঈফ হাদীছ হতে সতর্ক করার জন্য। এরপরও যারা সেগুলোর প্রতি আমল করবে তারাই দায়ী হবে। তবে কিছু হাদীছ যঈফ হওয়ার পরও তারা সেগুলো সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি। কারণ উক্ত হাদীছগুলোর সমর্থনে অন্যত্র ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।
 

শর্ত সাপেক্ষে যঈফ হাদীছের প্রতি আমল করা যাবে মর্মে পূর্ববর্তী কতিপয় বিদ্বান শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু ছাহাবী, তাবেঈ ও মুহাদ্দিছগণ যে সমস্ত মূলনীতি এবং শর্ত আরোপ করেছেন তাতে কোন ক্ষেত্রেই যঈফ হাদীছ গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন ইমাম বুখারী, মুসলিম, ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন, ইবনুল আরাবী মালেকী, ইবনু হাযম, ইবনু তায়মিয়াহ প্রমুখ শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিছগণ সকল ক্ষেত্রে যঈফ হাদীছ বর্জন করেছেন (ক্বাওয়াইদুত তাহদীছ, পৃঃ ১১৩ )। 

শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন, নিশ্চয়ই যঈফ হাদীছ অতিরিক্ত ধারণার ফায়েদা দেয় মাত্র। তবে এ বিষয়ে সকলে একমত যে, তার উপর আমল করা বৈধ নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি বলে, ফযীলত সংক্রান্ত যঈফ হাদীছের উপর আমল করা যাবে, তাকে অবশ্যই দলীল পেশ করতে হবে। কিন্তু তাতো অসম্ভব (তামামুল মিন্নাহ, পৃঃ ৩৪)। অতএব যঈফ হাদীছ কোন ক্ষেত্রেই আমলযোগ্য নয়।

রবিবার, ১১ মার্চ, ২০১২

আমি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেব যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করব

প্রশ্ন : মহান আল্লাহ বলেন, আমি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেব যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করব (বাক্বারাহ ২৮৪)। উক্ত কথার ব্যাখ্যা কী? আল্লাহ আদম (আঃ)-এর ডান স্কন্ধ থেকে যে রূহগুলো বের করেছেন সেগুলো জান্নাতী। আর যেগুলো বাম স্কন্ধ থেকে বের করেছেন সেগুলো জাহান্নামী (মিশকাত হা/১১৯)। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা কেন জাহান্নামী হল? এর সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : একই আলোচনা সূরা আলে ইমরান ১২৯, মায়েদাহ্ ১৮ ও ৪০ এবং ফাত্হ ১৪ আয়াতেও এসেছে। আল্লাহ তা‘আলা শিরক ছাড়া অন্য পাপের সাথে জড়িতদের যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন আর যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিবেন(নিসা ৪৮, ১১৬)। বান্দা হয়তো পাপ করার সাথে সাথে এমন কিছু সৎকর্ম করে যে তা যত ছোটই হোক আল্লাহ তাতে সন্তুষ্ট হয়ে তার গুনাহ্গুলোকে ক্ষমা করে দিবেন। যেমন তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর ফলে এক ব্যভিচারিণী মহিলাকে আল্লাহ ক্ষমা করে জান্নাতে দিবেন (মুত্তাফাক আলাইহ, মিশকাত হা/১৯০২)। আবার এক বিড়ালকে মৃত্যু পর্যন্ত না খাইয়ে বন্দী করে রাখার কারণে এক নারীকে জাহান্নামে যেতে হবে (মুত্তাফাক আলাইহ, মিশকাত হা/১৯০৩)
 

আদম সন্তান পরবর্তীতে দুনিয়াতে গিয়ে স্বেচ্ছায় যা কিছু করবে তা আল্লাহ্ পূর্ব থেকেই অবগত আছেন। কারণ তাঁর অবস্থান দেশ ও কালের ঊর্ধ্বে। অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যত বলে তাঁর নিকট কিছুই নেই। তাই অগ্রিম জ্ঞানের কারণে কে জান্নাতী হবে আর কে জাহান্নামী সবকিছুই তাঁর ইলমে রয়েছে। তাঁর সিদ্ধান্ত মানুষ যা করবে তার ভিত্তিতেই; তাঁর নিজের চাপানো নয়। কেননা ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর যুলুমকারী নন’(আলে ইমরান ১৮২; আনফাল ৫১; হজ্জ্ব ১০; ফুছছিলাত ৪৬; ক্বাফ ২৯)