মাযহাব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মাযহাব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১২

আহলেহাদীছগণ তাক্বলীদ করেন না।

প্রশ্ন  : জনৈক হানাফী ভাই আহলেহাদীছদেরকে বলেন, তারা ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর ফাতাওয়া মানেন না। কিন্তু নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) যা বলেন তাই বিশ্বাস করেন। তিনি আরো বলেছেন, আহলেহাদীছগণ তাক্বলীদ করেন না। কিন্তু তারা আলবানীর তাক্বলীদ করেন। উক্ত দাবী কি সঠিক?

উত্তর : আহলেহাদীছগণ ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-কে সর্বাপেক্ষা বেশী অনুসরণ করে থাকেন। কারণ হাদীছ ছহীহ হলেই সেটি ইমাম আবূ হানীফার মাযহাব (হাশিয়াহ ইবনু আবেদীন ১/৬৩)। আর আহলেহাদীছগণ ছহীহ হাদীছের অনুসরণ করে থাকেন। দলীল ছাড়া কোন কিছুর অনুসরণ করাকে তাকলীদ বলা হয়। আর দলীলের অনুসরণ করাকে ইত্তেবা বলা হয়। অতএব আহলেহাদীছগণ শায়খ আলবানীর তাক্বলীদ করেন না। বরং তার দলীল ভিত্তিক কথাগুলিকে গ্রহণ করেন। তিনি কোন ক্ষেত্রে ভুল করেছেন প্রমাণিত হলে আহলেহাদীছগণ তা গ্রহণ করেন না।

বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

চার ইমামের জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ ও স্থান

প্রশ্ন  : চার ইমামের জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ ও স্থান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : ইমাম আবু হানীফা (৮০-১৫০ হিঃ), জন্মস্থান- কূফা, মৃত্যু- বাগদাদ। ইমাম মালেক (৯৩-১৭৯ হিঃ), জন্মস্থান- মদীনার উত্তরে
যুলমারওয়া নামক স্থানে, মৃত্যু- মদীনা। ইমাম শাফেঈ (১৫০-২০৪ হিঃ), জন্মস্থান- সিরিয়ার গাযা এলাকায়, মৃত্যু- মিসর। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ), জন্মস্থান ও মৃত্যু- বাগদাদ (মুক্বাদ্দামা আশরাফুল হেদায়াহ মুতারজম শরহ উর্দূ হেদায়াহ (দেওবন্দ : মাকতাবাহ থানভী), পৃঃ ২৫-৫৩)

রাসূল (ছাঃ)-এর ছালাত কি বিভিন্ন রকমের ছিল?


প্রশ্ন  : রাসূল (ছাঃ)-এর ছালাত কি বিভিন্ন রকমের ছিল? চার ইমাম কেন ছালাতের চার রকম নিয়ম তৈরি করলেন? আর যদি তারা না তৈরি করেন তবে কে করল?
 
উত্তর : রাসূল (ছাঃ)-এর ছালাতের নিয়ম এক রকমই ছিল। তিনি বলেন, তোমরা  সেভাবেই ছালাত আদায় কর যেভাবে আমাকে ছালাত আদায় করতে দেখছ (বুখারী হা/৬৩১; মিশকাত হা/৬৮৩)। চার ইমামও চার রকম ছালাত তৈরী করেননি। তাদের নামে যা কিছু বলা হচ্ছে সবই ভক্তদের বাড়াবাড়ি। কারণ তাঁরা কেউ বলে যাননি যে, রাসূল (ছাঃ)-এর আমলের বিরোধী হলেও আমাদের কথা মেনে চলবে; বরং প্রত্যেক ইমামই বলে গেছেন যে, ছহীহ হাদীছই আমার মাযহাব (শারানী, কিতাবুল মীযান ১/৭৩)। আর ছহীহ হাদীছের দিকে ফিরে গেলে মুসলিম সমাজে অন্ততঃ ছালাতের ব্যাপারে কোন বিভক্তি থাকবে না। অতএব সকল মুসলিমদের উচিত মাযহাবী গোঁড়ামী পরিত্যাগ করে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের ভিত্তিতে ছালাত আদায় করা। [এজন্য ইংরেজী ও বাংলায় প্রকাশিত ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) অনলাইন সংস্করণ পাঠ করুন- সম্পাদক]

শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১২

সরাসরি কুরআন হাদীছ অনুযায়ী বর্তমানে আমল করা যাবে না।


প্রশ্ন  : অনেক আলেম বলে থাকেন, সরাসরি কুরআন হাদীছ অনুযায়ী বর্তমানে আমল করা যাবে না। কারণ কুরআন হাদীছ বুঝার বিষয় আছে। তাই চার ইমামের যেকোন একজনের অনুসরণ করতে হবে।

উত্তর : শরী
আতের যেকোন আমল কুরআন ও ছহীহ হাদীছ মোতাবেক হওয়া আবশ্যক, কোন ইমাম বা মাযহাবের রায় অনুসারে নয়। তবে স্মর্তব্য যে, কুরআন-হাদীছের খুঁটিনাটি বিষয় বুঝা সকলের পক্ষে সম্ভব হয় না। এ জন্য বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের সহযোগিতা গ্রহণ করতেই হবে (নাহল ৪৩, আম্বিয়া ৭)। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, নির্দিষ্ট একজন ইমাম বা নির্দিষ্ট একটি মাযহাবের তাক্বলীদ করতে হবে। বরং সর্বাবস্থায় কুরআন এবং ছহীহ হাদীছই একমাত্র অনুসরণীয় মানদন্ড। কোন মাযহাব বা ইমাম কিংবা কোন বিদ্বানের সিদ্ধান্ত যদি কুরআন ও ছহীহ হাদীছের বিপরীত প্রমাণিত হয়, তবে সে সিদ্ধান্ত অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে এবং কুরআন ও ছহীহ হাদীছের দিকে ফিরে আসতে হবে(নিসা ৫৯, আহযাব ৩৬)। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস ছেড়ে গেলাম যতদিন তোমরা তা আঁকড়ে ধরে থাকবে ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না। সে দুটি বস্তু হল আল্লাহর কিতাব ও তার নবীর সুন্নাহ (মুওয়াত্ত্বা, মিশকাত হা/১৮৬)

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১২

আবু হানীফার কথা বাদ দিয়ে ইমাম বুখারীর


প্রশ্ন  : জনৈক লেখক দাবী করেছেন, ইমাম আবু হানীফার জন্ম ৮০ হিজরীতে আর মৃত্যু ১৫০ হিজরীতে। ইমাম বুখারীর জন্ম ১৯৪ হিজরীতে আর মৃত্যু ২৫৬ হিজরীতে। সুতরাং আবু হানীফার কথা বাদ দিয়ে ইমাম বুখারীর সংগৃহীত হাদীছ গ্রহণ করা যাবে না। কারণ ইমাম বুখারীর চেয়ে ইমাম আবু হানীফা অনেক পূর্ববর্তী। উক্ত দাবীর সত্যতা জানতে চাই।
 
উত্তর : উক্ত দাবী তার অজ্ঞতার পরিচায়ক মাত্র। কেননা ছহীহ বুখারী ইমাম বুখারী (রহঃ)-এর কোন ব্যক্তিগত মতামতের সংকলন নয় বরং তা হ
ল ছহীহ হাদীছের সংকলন। আর ইমাম আবু হানীফার ফিক্বহ হল তাঁর ব্যক্তিগত রায় এবং তা সনদবিহীন, যা অনেক পরে তাঁর নামে সংকলিত হয়েছে বিভিন্ন ফিক্বহ গ্রন্থে। আর হাদীছের মুকাবিলায় ফিক্বহের কোন গুরুত্ব নেই।

মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১১

মাযহাব কী? কখন থেকে মাযহাব চালু হয়েছে?


প্রশ্ন : মাযহাব কী? কখন থেকে মাযহাব চালু হয়েছে? পৃথিবীর সব দেশেই কি মাযহাব আছে?

উত্তর :
মাযহাব শব্দের আভিধানিক অর্থ চলার পথ। পারিভাষিক অর্থ মতবাদ, মতাদর্শ ইত্যাদি। চারজন প্রসিদ্ধ মুজতাহিদ ইমামের ফিক্বহী মতামতকে ইসলামী পরিভাষায় মাযহাব বলা হয়। উক্ত চার ইমামের মৃত্যুর বহু পরে রাজনৈতিক দলাদলির সুবাদে বিভিন্ন মাযহাবের সূত্রপাত হয় এবং মুসলিমগণ নানা দলে ভিন্ন ভিন্ন নামে বিভক্ত হয়ে যায়। মানুষ স্ব স্ব মাযহাবের অন্ধ মুক্বাল্লিদ হয়ে পড়ে এবং ছহীহ হাদীছের নিরপেক্ষ অনুসরণ থেকে অধিকাংশই দূরে চলে যায়। অথচ উক্ত চার ইমামের প্রত্যেকেই বলে গেছেন, যখন তোমরা ছহীহ হাদীছ পাবে, মনে রেখ সেটাই আমাদের মাযহাব (শারানী কিতাবুল মীযান (দিল্লী ছাপা) ১/৭৩)। শাহ অলিউল্লাহ দেহলভী বলেন, ৪র্থ শতাব্দী হিজরীর পূর্বে মুসলমানগণ নির্দিষ্ট কোন একটি মাযহাবের মুক্বাল্লিদ ছিল না (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগ মিসরী ছাপা ১/১১৮)।