ঈমান-আক্বীদা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঈমান-আক্বীদা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৫ মার্চ, ২০১২

আমার অন্তরে অনেক সময় শিরকী কথার উদয় হয়।

প্রশ্ন  : আমার অন্তরে অনেক সময় শিরকী কথার উদয় হয়। এ কারণে অস্থিরতা বোধ করি। এজন্য আল্লাহ আমাকে পাকড়াও করবেন কি?

উত্তর : উক্ত ওয়াসওয়াসার জন্য আল্লাহ বান্দাকে পাকড়াও করবেন না। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, আমার উম্মতের অন্তরে যে খটকার উদয় হয় আল্লাহ তা‘আলা তা মাফ করে দিবেন- যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা তা কাজে পরিণত করে অথবা মুখে প্রকাশ করে (মুত্তাফাক আলাইহ, মিশকাত হা/৬৩)। এমন অবস্থা সৃষ্টি হলে আল্লাহর নিকট পানাহ চাইতে হবে এবং এরূপ চিন্তা থেকে বিরত থাকতে হবে
(বুখারী হা/৩২৭৬; মিশকাত হা/৬৫)

রবিবার, ৪ মার্চ, ২০১২

ওয়াসওয়াসাই সুস্পষ্ট ঈমান।

প্রশ্ন  : ছহীহ মুসলিমের একটি হাদীছে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, ওয়াসওয়াসাই সুস্পষ্ট ঈমান। উক্ত হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : অনুবাদটা ভুল হয়েছে। ওয়াসওয়াসাকে ঈমান বলা হয়নি; বরং ওয়াসওয়াসার ভীতিকে ঈমান বলা হয়েছে। ছাহাবীগণের একটি দল এসে বললেন, আমাদের মনে এমন কিছু উদয় হয় যা আমরা খুব খারাপ মনে করি। কিন্তু তা মুখে প্রকাশ করাকে আমরা গুরুতর অপরাধ মনে করি। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘এই ভীতিই তোমাদের সুস্পষ্ট ঈমান
(মুসলিম হা/৩৫৭; মিশকাত হা/৬৪)। তবে মনে এরূপ ধারণা সৃষ্টি হলে আল্লাহর কাছে নাঊযুবিল্লাহ বলে পানাহ চাইতে হবে (বুখারী হা/৩২৭৬; মিশকাত হা/৬৫)

শুক্রবার, ২ মার্চ, ২০১২

কবিরাজগণ জিনদের মাধ্যমে

প্রশ্ন : ২০০৩ ইং জুলাই আত-তাহরীক ৯নং প্রশ্নোত্তরে লেখা হয়েছে, ‘কবিরাজগণ জিনদের মাধ্যমে যেসব কথাবার্তা বলে থাকেন তা বিশ্বাস করা যাবে’। কিন্তু হাদীছে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট আসল এবং তার কথার প্রতি বিশ্বাস করল সে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তাকে অস্বীকার করল (আহমাদ ২/৪২৯ পৃঃ)। অন্য হাদীছে রয়েছে, ৪০ দিন তার ছালাত কবুল হবে না (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৫৯৫)। উক্ত বিষয়ে সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর :সূরা জিনের ১৪নং আয়াতের মাধ্যমে জানা যায় জিনদের মধ্যে মুমিন জিনও আছে। তাদের মাধ্যমে কবিরাজগণ কুরআন ও ছহীহ হাদীছ সম্মত যেসব কথা বলে থাকেন তা বিশ্বাস করা যায়। কারণ এটা গণকের কাল্পনিক ভাগ্য নির্ণয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। গণক তারাই যারা মানুষের ভাগ্য নির্ণয় করে থাকে এবং বিভিন্ন প্রকার গায়েবী কথা-বার্তা বলে থাকে, যা শিরকের অন্তর্ভুক্ত (মুসলিম হা/৫৮৬২)

সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

বিলকিস বেগম নামে এক লেখিকা দাবী করেছেন,


প্রশ্ন  : বিলকিস বেগম নামে এক লেখিকা দাবী করেছেন, আদম (আঃ)-এর পূর্বেও পৃথিবীতে মানুষ ছিল। এছাড়া তিনি আরো অনেক নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার করেছেন (কালের কণ্ঠ ২০ মে ২০১১ পৃঃ ১৭)। এর সত্যতা জানতে চাই।

উত্তর : উক্ত দাবী সঠিক নয়। কারণ আদম সৃষ্টির ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, মানুষের আগে আল্লাহ জিনকে সৃষ্টি করেছেন। আর জিনের পূর্বে ফেরেশতাকে সৃষ্টি করেছেন। আর ফেরেশতারা যা দাবী করেন তাতে আদম প্রথম মানুষ (বাক্বারাহ ৩০)। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহ যখন জান্নাতে আদমের আকৃতি তৈরী করলেন এবং যতদিন ইচ্ছা এভাবেই রেখে দিলেন, তখন ইবলীস তার চারেদিকে ঘুরছিল এবং লক্ষ্য করছিল এটা আবার কি? অতঃপর যখন সে দেখল যে এর ভিতরে ফাঁকা রয়েছে তখন সে বুঝল যে এটা এমন সৃষ্টি যে নিজেকে আয়ত্তে রাখতে পারবে না
(মুসলিম, মিশকাত হা/৫৭০২)। অত্র হাদীছ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ইবলীস আদমের মত কোন সৃষ্টিকে এর পূর্বে দেখেনি। এ কারণেই সে চতুর্দিকে ঘুরছিল এবং লক্ষ্য করছিল।

শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সময় পানাহার করা


প্রশ্ন  : চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সময় পানাহার করা ও স্ত্রী সহবাস করা যাবে কি? চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের কারণ কী?

উত্তর : চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণের সময় বিভিন্ন কাজে নিষেধ করা সামাজিক কুসংস্কার মাত্র। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, চন্দ্র, সূর্য গ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন, এগুলি কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণগ্রস্ত হয় না। যখন তোমরা গ্রহণ দেখবে তখন আল্লাহকে স্মরণ করবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪৮২)। তিনি আরও বলেন, তোমরা আল্লাহর যিকির, দোআ ও ইস্তিগফারে মশগুল থাক (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪৮৪)। সুতরাং দুনিয়াবী কাজে মগ্ন না থেকে আল্লাহর যিকির, ছালাত এবং দোআ করতে হবে। এ সময় সুন্নাত হল প্রতি রাকআতে ২টি রুকুসহ মোট চার রুকূ দিয়ে দুরাকআত সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের ছালাত আদায় করা (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৪৮০, ৮২; দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ২৫৫)

বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

আদম (আঃ) সৃষ্টির পূর্বে পৃথিবীতে

প্রশ্ন  : আদম (আঃ) সৃষ্টির পূর্বে পৃথিবীতে যে জিন জাতি ছিল তাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন নবী-রাসূল এসেছিলেন কি?

উত্তর : আল্লাহ জিন জাতির মধ্যে কোন নবী-রাসূল প্রেরণ করেননি। জিনেরা যখন অন্যায় কাজে লিপ্ত হত, তখন আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একদল সৈন্য বাহিনী প্রেরণ করতেন। তারা তাদেরকে শায়েস্তা করতেন। প্রয়োজনে দ্বীপে নির্বাসন দিতেন (তাফসীর ইবনে কাছীর; সূরা বাক্বারাহ ৩০; ফাৎহুল ক্বাদীর ১/৬৪)