বিবাহ-ত্বালাক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিবাহ-ত্বালাক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৩০ মার্চ, ২০১২

ওমর (রাঃ) মেয়েদের মোহরানা নির্ধারণ করে দিলে জনৈক মহিলা

প্রশ্ন  : ওমর (রাঃ) মেয়েদের মোহরানা নির্ধারণ করে দিলে জনৈক মহিলা তার বিরোধিতা করেছিলেন মর্মে যে ঘটনা প্রচলিত আছে তার প্রমাণ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : বায়হাক্বী (৭/২৩৩ পৃঃ) বর্ণিত উক্ত হাদীছটি মুনক্বাতি
অর্থাৎ যঈফ। তবে একই হাদীছ যা আবুদাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহতে বর্ণিত হয়েছে, সেটি হাসান। তবে সেখানে মহিলার আপত্তির কথা বর্ণিত হয়নি। উল্লেখ্য যে, মোহরানা বেশী করায় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং উক্ত আয়াত দ্বারা মুবাহ প্রমাণিত হয়। তবে সেটা হবে বরের আর্থিক অবস্থার বিবেচনায়। মোহরানায় কোন বাড়াবাড়ি করা যাবে না। বরং সর্বদা মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে (দ্রঃ তাফসীর কুরতুবী; নিসা ২০ ও ২১ আয়াত; বায়হাক্বী মোহরানা অধ্যায় ৭/২৩৩-৩৫)

সোমবার, ১৯ মার্চ, ২০১২

বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রী করার পেশা কি শরী‘আত সম্মত?।

প্রশ্ন  : ক্বাযী পেশা তথা বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রী করার পেশা কি শরী‘আত সম্মত?। ইসলামী খিলাফতে এই প্রথার অস্তিত্ব পাওয়া যায় কি?

উত্তর : বিবাহের আক্বদের বিষয়টি সুন্নাত। তবে তা লিখা আর না লিখার বিষয়টি বর-কনের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। বর্তমানে বহুমুখী প্রয়োজনের তাকীদেই বিবাহ রেজিষ্ট্রী করা হয়। অফিস, আদালত, হজ্জ, চাকুরী ইত্যাদিতে কেউ  যেন প্রতারিত না হয় সে ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগে। এ জন্য সরকার ক্বাযীদেরকে নিয়োগ দিয়ে থাকে। অতএব এ পেশায় কোন দোষ নেই। ইসলামী খেলাফতে প্রজাদের কল্যাণে শরী‘আতের মূলনীতির অনুকূলে যেকোন বিধান জারি করার এখতিয়ার রয়েছে। তাই বিগত যুগে এ প্রথার অস্তিত্ব ছিল কি-না, সেটা বড় কথা নয়।

সোমবার, ৫ মার্চ, ২০১২

ভাই, জামাই ও শ্যালককে নিয়ে ছেলের জন্য বউ দেখতে পারে কি?

প্রশ্ন  : কোন ব্যক্তি তার ভাই, জামাই ও শ্যালককে নিয়ে ছেলের জন্য বউ দেখতে পারে কি? বিয়ের পর তাদের থেকে বউকে পর্দা করতে হবে কি?

উত্তর : ছেলে ব্যতীত উল্লেখিত কোন ব্যক্তিই বউ দেখতে পারবে না। তবে পরিবেশ বা আনুসঙ্গিক বিষয় সমূহ দেখার জন্য অভিভাবকগণ খোঁজ-খবর নিতে পারবেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলল, আমি আনছারদের এক মেয়েকে বিবাহ করতে ইচ্ছুক। তিনি বললেন, তুমি তাকে প্রথমে দেখে নাও। কারণ আনছার মহিলাদের চোখে দোষ থাকে (মুসলিম, মিশকাত হা/৩০৯৮)। বিয়ের পর স্ত্রীকে অবশ্যই স্বামীর ভাই, চাচা, মামা, ভগ্নিপতি থেকে পর্দা করতে হবে (নূর ৩১; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১০২)

শনিবার, ৩ মার্চ, ২০১২

কেউ যদি তার স্ত্রীর অগোচরে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়,

প্রশ্ন  : কেউ যদি তার স্ত্রীর অগোচরে তার স্ত্রীকে এক তালাক দেয় অথবা তিন তালাক দেয়, তাহলে তাতে তালাক হবে কি? সবার মতে এক সাথে তিন তালাক দিলে তালাক হয়ে যায়। কিন্তু অগোচরে দিলে তা পতিত হবে কি? উক্ত প্রশ্নের জবাবে জামি‘আ আরাবিয়া কাসেমুল উলূম লাকসাম, কুমিল্লা থেকে ফৎওয়া দেওয়া হয়েছে যে, এক সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাকই পতিত হয়। চাই সেই তালাক স্ত্রীর উপস্থিতিতে হউক বা তার অনুপস্থিতিতে হউক। দলীল হিসাবে ইবনু ওমর (রাঃ) বর্ণিত এক সঙ্গে তিন তালাক পতিত হওয়ার বর্ণনা পেশ করা হয়েছে এবং ফাতাওয়া শামীর ৩/২৪৮ পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। উক্ত জবাব কি সঠিক হয়েছে?

উত্তর : স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বামী যদি তাকে তালাক দেয় এবং স্ত্রীকে জানিয়ে দেয় তাহলে তালাক হয়ে যাবে। আমর ইবনু হাফছ তার স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ফাতিমা বিনতে ক্বায়েসকে তালাক দেন এবং কিছু যবসহ তার নিকট একজন প্রতিনিধি পাঠান। কিন্তু তার স্ত্রী তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। অতঃপর তার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট এ ঘটনা বর্ণনা করল। তখন রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমার উপর তালাক সংঘটিত হয়েছে। কাজেই তার পক্ষ থেকে তোমার উপর কোন খোরপোষের দায়িত্ব নেই (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৩২৪)
 

দ্বিতীয়তঃ এক বৈঠকে তিন তালাক দিলে এক তালাক গণ্য হবে। তিন তালাক গণ্য হবে না। রাসূল (ছাঃ)-এর যামানায় এবং আবুবকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ)-এর খেলাফতের প্রথম দু’বছরে একত্রিত তিন তালাককে এক তালাক গণ্য করা হ’ত (মুসলিম হা/১৪৭২)
 

উল্লেখ্য যে, ইবনু ওমর (রাঃ) কর্তৃক দারাকুৎনীতে বর্ণিত যে বর্ণনা পেশ করা হয়েছে তা ছহীহ হাদীছের বিরোধী হওয়ায় মুহাদ্দিছগণ তাকে ‘মুনকার’ বলেছেন। সুতরাং তা গ্রহণযোগ্য নয় (ইরওয়াউল গালীল, ৭ম খন্ড, হা/২০৫৪)। এরূপ বহু ‘আছার’ মুওয়াত্ত্বা মালেক, মুছান্নাফে আব্দুর রাযযাক প্রভৃতিতে এসেছে। যার অধিকাংশ যঈফ, মুনকার, মওযূ ও কয়েকটা ছহীহ। কিন্তু এগুলো অগ্রহণযোগ্য। কারণ বুখারী ও মুসলিমে ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে এর বিরোধী হাদীছ বর্ণিত হয়েছে (বিস্তারিত আলোচনা দ্রঃ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব প্রণীত ‘তালাক ও তাহলীল’ বই)

শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

মোবাইল যোগে মেয়ের বাবা দুইজন সাক্ষীর সামনে

প্রশ্ন  : মোবাইল যোগে মেয়ের বাবা দুইজন সাক্ষীর সামনে বলেছেন যে, তোমার সাথে আমার মেয়েকে বিবাহ দিলাম। এ বিবাহ কি বৈধ হবে?

উত্তর : মেয়ের সম্মতিক্রমে যদি হয় তাহলে উক্ত পদ্ধতিতে বিবাহ হয়ে যাবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১২৬)। মক্কার নেতা আবু সুফিয়ানের মেয়ে উম্মে হাবীবাকে বিবাহ করার জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মদীনা থেকে বাদশা নাজাশীকে ওকালতির দায়িত্ব প্রদান করেন। আবু সুফিয়ান অমুসলিম হওয়ার কারণে বাদশা নাজাশী তার পক্ষ থেকে মোহরানা প্রদান করেন ও রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে তাকে বিবাহ দিয়ে দেন (আবু দাঊদ, মিশকাত হা/৩২০৮)

সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বর ও কনের মাঝে কিভাবে বিবাহ পড়াতেন?

প্রশ্ন  : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বর ও কনের মাঝে কিভাবে বিবাহ পড়াতেন?
 
উত্তর : বিবাহ পড়ানোর সুন্নাতী পদ্ধতি হল, প্রথমে বিবাহের খুৎবা হবে। অতঃপর মেয়ের সম্মতিক্রমে দুই জন সাক্ষীর সামনে মেয়ের পিতা বা অভিভাবক বলবে, আমি আমার মেয়েকে তোমার সাথে বিবাহ দিলাম। আর ছেলে বলবে, আমি কবুল করলাম। এভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়ে যাবে। এরপর সুন্নাতী দো
আ পড়বে- بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكُمَا وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِى خَيْرٍ (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/২৪৪৫)। মেয়ের কাছে গিয়ে সাক্ষীদের সামনে বিবাহ পড়ানোর পদ্ধতি ঠিক নয়। তবে পিতা বা অভিভাবককে অবশ্যই সাবালিকা মেয়ের সম্মতি নিতে হবে (বুখারী হা/৫১৩৬)