ক্রয়-বিক্রয়-ব্যবসা-আয়-উপার্জন-জীবিকা সংক্রান্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ক্রয়-বিক্রয়-ব্যবসা-আয়-উপার্জন-জীবিকা সংক্রান্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৩১ মার্চ, ২০১২

‘ডেসটিনি ২০০০ প্রাইভেট লিমিটেড’ যে কার্যক্রম চালাচ্ছে

প্রশ্ন : ডেসটিনি ২০০০ প্রাইভেট লিমিটেড যে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং Multi Level Marketingপদ্ধতিতে যে লভ্যাংশ মানুষকে দিচ্ছে তা কি শরীআত সম্মত?

উত্তরঃ মৌলিকভাবে দু
টি পদ্ধতিতে যৌথ ব্যবসা করা শরীআত সম্মত। একটির নাম মুশারাকাহ (مشاركة) অর্থাৎ শরীকানা ব্যবসা। এতে যার যেমন অর্থ থাকবে, সে তেমন লভ্যাংশ পাবে (আবুদাঊদ হা/৪৮৩৬; সনদ ছহীহ, বুলূগুল মারাম হা/৮৭০; নায়ল হা/২৩৩৪-৩৫)। অপরটির নাম মুযারাবাহ (مضاربة) অর্থাৎ একজনের অর্থ নিয়ে অপর জন ব্যবসা করবে। এ পদ্ধতিতে লভ্যাংশ তাদের মাঝে চুক্তিহারে বন্টিত হবে (দারাকুৎনী হা/৩০৭৭; মুওয়াত্ত্বা হা/২৫৩৫; ইরওয়াউল গালীল হা/১৪৭২, ৫/২৯২ পৃঃ; বুলূগুল মারাম হা/৮৯৫, মওকূফ ছহীহ)। প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যবসা এ দুয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।
 

সঊদী আরবের জাতীয় গবেষণা ও ফাতাওয়া বিভাগের স্থায়ী কমিটি (লাজনা দায়েমাহ) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে যে, পিরামিড স্কীম, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা এমএলএম যে নামেই হোক না কেন এ ধরনের সকল প্রকার লেনদেন নিষিদ্ধ। কেননা এর উদ্দেশ্য হল, কোম্পানীর জন্য নতুন নতুন সদস্য সৃষ্টির মাধ্যমে কমিশন লাভ করা, পণ্যটি বিক্রি করে লভ্যাংশ গ্রহণ করা নয়। এ কারবার থেকে বহুগুণ কমিশন লাভের প্রলোভন দেখানো হয়। স্বল্পমূল্যের একটি পণ্যের বিনিময়ে এরূপ অস্বাভাবিক লাভ যে কোন মানুষকে প্ররোচিত করবে। আর এতে ক্রেতা-পরিবেশকদের মাধ্যমে কোম্পানী এক বিরাট লাভের দেখা পাবে। মূলতঃ পণ্যটি হল কোম্পানীর কমিশন ও লাভের হাতিয়ার মাত্র।
 

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবসা অসম মূল্য নির্ধারণ ও অতিরঞ্জিত আয়ের প্রলোভন দেখানোর কারণে অভিযুক্ত হয়েছে। আমেরিকার ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) ২০০৮ সালের মার্চ মাসে তাদের প্রস্তাবিত ব্যবসায় সুযোগ সম্বন্ধীয় তালিকা থেকে এমএলএম কোম্পানীগুলোর নাম বাদ দিয়েছে। সংস্থাটি গ্রাহকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নতুন সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে কমিশন গ্রহণ করার এই রীতি (এমএলএম) বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পিরামিড স্কীম পদ্ধতির ন্যায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে (দ্রঃ Multi-level marketing-উইকিপিডিয়া)। 


তত্ত্বগতভাবেও এ ধরনের মার্কেটিং বিষয়ে অনেক আপত্তি রয়েছে। কেননা এ মার্কেটিং-কে বলা হয়েছে, MLM is like a train with no brakes and no engineer headed full-throttle towards a terminal. অর্থাৎ সর্বোচ্চ গতিতে স্টেশনমুখী একটি ট্রেনের মত যার কোন ব্রেক নেই, নেই কোন চালক (দ্রঃ www.vandruff.com/mlm.html)।
 

সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এ ব্যবসা সমর্থন করা যায় না। কেননা একজন গ্রাহককে তার আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবদের বশীভূত করে পণ্য বিক্রয় করতে বলা হয়। ফলে গ্রাহক ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। মানুষের সাথে অন্তরঙ্গ আত্মীয়তা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ককে সে ব্যবসায়িক স্বার্থ চরিতার্থের কেন্দ্রে পরিণত করে। এ সম্পর্ক তখন হয়ে যায় যান্ত্রিক। নিষ্কলুষ বন্ধুত্বের স্থলে তখন সন্দেহ আর সংকীর্ণতাবোধ স্থান করে নেয়। নিজ গৃহ পরিণত হয় মার্কেট প্লেসে। যে কোন সুস্থ বিবেকসম্পন্ন লোক এ কাজে ঘৃণাবোধ করবে।
 

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, হালাল স্পষ্ট, হারামও স্পষ্ট। এর মধ্যবর্তী বিষয়সমূহ অস্পষ্ট, যা অনেক মানুষ জানে না। অতএব যে ব্যক্তি সন্দিগ্ধ বস্তুসমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, সে ব্যক্তি তার দ্বীন ও সম্মানকে পবিত্র রাখলো। আর যে ব্যক্তি সন্দিগ্ধ কাজে লিপ্ত হল, সে হারামে পতিত হ(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৭৬২)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, সন্দিগ্ধ বিষয় পরিহার করে নিঃসন্দেহ বিষয়ের দিকে ধাবিত হও। কেননা সত্যে রয়েছে প্রশান্তি এবং মিথ্যায় রয়েছে সন্দেহ (তিরমিযী হা/২৫৮১; সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/২৭৭৩)
 

অতএব আমাদের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত এই যে, প্রশ্নে উল্লেখিত নামে বা অন্য নামে প্রচলিত এম.এল.এম ব্যবসা সমূহ শরীআত সম্মত হবে না। জান্নাত পিয়াসী মুমিনকে এসব থেকে বেঁচে থাকতে হবে (বিস্তারিত দেখুনঃ আত-তাহরীক, ডিসেম্বর ২০০৮ প্রশ্নোত্তর : ২/৮২ ডেসটিনি২০০০ ব্যবসা কি জায়েয?

শুক্রবার, ৩০ মার্চ, ২০১২

শেয়ার ব্যবসা কি জায়েজ

প্রশ্ন  : বাজারে শেয়ার বেচাকেনা হয়। এর লাভ লটারীর মাধ্যমে শেয়ার হোল্ডারদের মাঝে বণ্টন করা হয় অথবা একাউন্টে জমা হয়। এভাবে লটারীর মাধ্যমে বেচাকেনা করা যাবে কি?
 
উত্তর : বিভিন্ন কারণে শেয়ার বেচাকেনা জায়েয নয়। যেমন- 


(১) ক্রেতার অনেক সময় সম্যক জ্ঞান থাকে না কী বস্তুর শেয়ার তিনি ক্রয় করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হারাম বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় হারাম করেছেন (আবুদাঊদ হা/৩৪৮৮)। 

(২) যে বস্তুর শেয়ার কেনা-বেচা হয়, তা দেখা ও জানা-বুঝার সুযোগ থাকে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এমন ক্রয়-বিক্রয়কে ধোঁকা বলেছেন (মুসলিম হা/৩৮৮১; বুলূগুল মারাম হা/৭৮৪)। 

(৩) শেয়ার ব্যবসার পণ্য আয়ত্বে নিয়ে আসার সুযোগ থাকে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বস্তু ক্রয়ের পর তা নিজ মালিকানায় নিয়ে আসার পূর্বে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন (মুসলিম হা/৩৯১৬ ও ৩৯২৫; বুলূগুল মারাম হা/৭৮৫)। 

(৪) শেয়ার ব্যবসা একটি জুয়া মাত্র। যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ মাল দেখে না। অথচ ঘণ্টায় ঘণ্টায় দর উঠা-নামা হয়। 

(৫) শেয়ার ব্যবসায় ফটকাবাজারীর প্রচুর সুযোগ রয়েছে। অনেক সময় কোম্পানী তার প্রকৃত তথ্য গোপন রাখে। কখনো লোকেরা কোম্পানীতে শেয়ার কিনে অধিক লাভ করে। কখনো কারখানা তৈরি না করেই তার শেয়ার বাজারে ছাড়া হয় এবং নতুন শেয়ারে অধিক লাভ মনে করে সেটিকে লোকেরা অধিক মূল্যে খরিদ করে। কোনরূপ ব্যবসা বা মালামাল ছাড়াই তারা এ লাভ করে থাকে। এছাড়াও নিত্যনতুন ছলচাতুরী শেয়ারবাজারে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে। 

(৬) এতে সূদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ শেয়ার ব্যবসা ব্যাংক থেকে সূদের ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে করা হচ্ছে। অতএব শেয়ার ব্যবসা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক (দ্রঃ আত-তাহরীক ডিসেম্বর ২০১০, প্রশ্নোত্তর : ২৫/১০৫)

শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ব্যবসায়ীকে কোন পণ্য কিনে দেওয়ার বিনিময়ে

প্রশ্ন  : ব্যবসায়ীকে কোন পণ্য কিনে দেওয়ার বিনিময়ে নির্ধারিত কোন লাভ নেওয়া যাবে কি?

উত্তর : ব্যবসায়ী যদি কাউকে কোন পণ্য ক্রয় করার দায়িত্ব দেন, তাহলে ব্যবসায়ী ইচ্ছা করলে তাকে মজুরী হিসাবে কিছু দিতে পারেন, লাভের অংশ হিসাবে নয়। সে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নির্ধারিত কোন লাভ নিতে পারবে না (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১৪/২৭৩ পৃঃ)

বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

দেশীয় নিয়মানুযায়ী ৪০ কেজিতে এক মণ

প্রশ্ন  : দেশীয় নিয়মানুযায়ী ৪০ কেজিতে এক মণ হয়। কিন্তু আমের সময় বাজারে আম বিক্রি করলে ব্যবসায়ীরা ৫০ কেজিতে এক মণ হিসাব করে। এটা কি শরীআত সম্মত?
 
উত্তর : বাজারের প্রচলিত নীতির উপর ভিত্তি করে লেনদেন করা দরকার। আলাদা নিয়ম চালু করলে সেটা উভয়ের সম্মতিক্রমে হ
তে হবে। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, তোমরা ওযন করবে সঠিক মাপে। লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবে না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাবে না (শুআরা ১৮২-১৮৩)

মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১২

দশ বছর বা পাঁচ বছরের আগাম চুক্তিতে আম গাছের পাতা বিক্রি করা


প্রশ্ন  : দশ বছর বা পাঁচ বছরের আগাম চুক্তিতে আম গাছের পাতা বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও মুকুল বিক্রি করা হচ্ছে। উক্ত পদ্ধতিতে আম বাগান বিক্রি করা কি বৈধ? অনেকে এভাবে আম বিক্রি করে হজ্জে যাচ্ছেন। তার হুকুম কি হবে?

উত্তর : ফল খাওয়ার উপযোগী না হওয়া  পর্যন্ত ফলদার গাছের ফল ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৮৩৯)। কারণ এতে ধোঁকায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি সম্পদের মালিকানা অর্জনের পূর্বেই তা বিক্রি করার আওতাভুক্ত। পাতা কেনা বা মুকুল কেনা সবই এই নিষেধের অন্তর্ভুক্ত।
হালাল উপার্জন যেহেতু ইবাদত কবুলের অন্যতম শর্ত (বাক্বারাহ ১৬৮), তাই হারাম পন্থায় উপার্জন করে সেই টাকা দিয়ে হজ্জ করলে হজ্জ কবুল হবে না (মুসলিম, মিশকাত হা/২৭৬০)

বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১১

আমি পোষাক শিল্পে কাজ করি। যেখানে নারী-পুরুষ

প্রশ্ন  : আমি পোষাক শিল্পে কাজ করি। যেখানে নারী-পুরুষ একত্রিতভাবে কাজ করে। কেউ পশ্চিমা পোষাকে অফিস করে। প্রভিডেন্ড ফান্ডেরও ব্যবস্থা আছে। আমার উক্ত চাকুরী কি হালাল হবে?
 
উত্তর : ফেতনায় পড়ার আশঙ্কা আছে, এমন স্থানে কাজ করা যাবে না, যদিও সে কাজ বৈধ হয়। রাসূল (ছাঃ) পুরুষদের জন্য নারীদেরকে সবচেয়ে ক্ষতিকর ফিৎনা হিসাবে উল্লে­খ করেছেন (বুখারী হা/৫০৯৬; মিশকাত হা/৩০৮৫)। আপনার কর্মটি যদি হারাম উৎপাদন বা হারাম বস্ত্তর সাথে জড়িত না থাকে, তাহ
লে উপার্জন অবশ্যই হালাল হবে। তবে ফেতনায় পড়ার আশঙ্কা থাকলে পরিবর্তন করতে হবে। এটাও সম্ভব না হলে সাধ্য মত আল্লাহকে ভয় করতে হবে ... (তাগাবুন ৬৪/১৬)