দোয়া-জিকির-ওজিফা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দোয়া-জিকির-ওজিফা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২০ মার্চ, ২০১২

জুম‘আর দিনে মিষ্টি (খাজা, বাতাসা) দিয়ে দো‘আ চাইলে

প্রশ্ন  : কোন মুছল্লী জুম‘আর দিনে মিষ্টি (খাজা, বাতাসা) দিয়ে দো‘আ চাইলে সকলে মিলে ছালাতের পর হাত তুলে দো‘আ করা যাবে কি? অনুরূপ ঐ মিষ্টি খাওয়া যাবে কি?

উত্তর : মিষ্টি অথবা নিজ গাছের ফলমূল হাদিয়া হিসাবে ছওয়াব লাভের আশায় খাওয়ালে খাওয়া যাবে। এর ফযীলত বর্ণিত হয়েছে (ইবনু মাজাহ হা/৩২৫১)। তবে খাওয়ার বিনিময়ে  দো‘আ করতে হবে এই নিয়তে খাওয়া বৈধ হবে না। দু’হাত তুলে সম্মিলিতভাবে দো‘আ করাও যাবে না। কেউ দো‘আ চাইলে প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে তার জন্য দো‘আ করবে (বুখারী হা/৪৩২৩)

শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১২

একজন মুছল্লী তার নিজের চাওয়া-পাওয়াসহ যাবতীয় মুনাজাত কখন কিভাবে করবে?

প্রশ্ন  : একজন মুছল্লী তার নিজের চাওয়া-পাওয়াসহ যাবতীয় মুনাজাত কখন কিভাবে করবে?

উত্তর : সালাম ফিরানোর পূর্বে তাশাহহুদে বসে কুরআন ও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত যেকোন দো‘আ ইচ্ছামত পড়তে পারবে (বুখারী হা/৯২৪; মিশকাত হা/৯০৯)। এছাড়া সিজদাতেও হাদীছে বর্ণিত দো‘আগুলো বেশী বেশী পড়া যাবে (মুসলিম হা/১১০২)। কারো দো‘আ মুখস্থ না থাকলে ছালাতের বাইরে যেকোন ভাষায় যেকোন বৈধ দো‘আ করতে পারে। তবে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) অধিকাংশ সময় নিম্নোক্ত সারগর্ভ দো‘আটি পাঠ করতেন, যা দুনিয়া ও আখেরাতের সব চাহিদাকে শামিল করে। যেমন ‘রববানা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া...’। এছাড়া দুই সিজদার মাঝে বসে ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলী ওয়ারহামনী...’ দো‘আটিও বান্দার সব চাওয়াকে শামিল করে।

শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১২

পুলছিরাতের ঊনিশটি স্তর আছে।


প্রশ্ন  : ফজর ও মাগরিব ছালাতের পর অনেকে ঊনিশবার বিসমিল্লাহ পড়ে থাকেন। কারণ পুলছিরাতের ঊনিশটি স্তর আছে। এই আমল করলে উক্ত স্তরগুলো খুব সহজে পার হতে পারবে। উক্ত বক্তব্য কি ঠিক?

উত্তর : উক্ত মর্মে কোন ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না। আর কোন আমল ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত না হ
লে তা বিদআত হবে। যার পরিণাম জাহান্নাম (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১; নাসাঈ হা/১৫৭৮)

সোমবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১২

সালাম ফিরানোর পর মাথায় হাত রেখে দো‘আ


প্রশ্ন  : অনেকে ছালাতের সালাম ফিরানোর পর মাথায় হাত রেখে দোআ পড়ে থাকেন। এর প্রমাণে ছহীহ দলীল জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : মাথায় হাত রেখে দো
আ পড়ার যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তা নিতান্তই দুর্বল (ত্বাবারাণী, আল-মুজামুল আওসাত, পৃঃ ৪৫১) । শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন, উক্ত বর্ণনার সনদে কাছীর নামে একজন রাবী রয়েছে, সে নিতান্ত দুর্বল। ইমাম বুখারী, আবু হাতিম, নাসাঈসহ অন্যান্য মুহাদ্দিছগণ তাকে অস্বীকৃত রাবী বলে মন্তব্য করেছেন (সিলসিলা যঈফাহ হা/৬৬০)

হালক্বায়ে যিকর অর্থ কী? এটা কি সুন্নাত সম্মত?


প্রশ্ন  : বিভিন্ন মসজিদে মাগরিবের ছালাতের পর হালক্বায়ে যিকরের আয়োজন করা হয়। হালক্বায়ে যিকর অর্থ কী? এটা কি সুন্নাত সম্মত?

উত্তর : গোল হয়ে বসে যিকর করাকে হালক্বায়ে যিকর বলা হয়। রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর কিছুদিন পর একশ্রেণীর বিদ
আতী এই পদ্ধতি চালু করে। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে ইবাদতের যে সকল পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে, হালক্বায়ে যিকর তার অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং দলবদ্ধভাবে উচ্চৈঃস্বরে হালক্বায়ে যিকর করা বিদআত (ড. ছালেহ বিন ফাওযান, কিতাবুত তাওহীদ পৃঃ ৭২)
ওমর ইবনু ইয়াহইয়া (রাঃ) বলেন, একদা মসজিদে নববীতে দলবদ্ধভাবে গোল হয়ে বসে যিকর হচ্ছিল। আবু মূসা আশ
আরী (রাঃ) এসে খবর দিলে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) মসজিদে গিয়ে তাদেরকে বললেন, তোমরা কী করছ? তারা বলল, আমরা তাকবীর, তাহলীল, তাসবীহ ও তাহমীদ গণনা করছি। তখন তিনি বললেন, আসলে তোমরা তোমাদের গুনাহসমূহ গণনা করছ। এখনো ছাহাবীগণ জীবিত আছেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাপড় এখনো অক্ষত আছে। তাঁর পানপাত্র সমূহ এখনো ভাঙ্গেনি। আর এখুনি তোমরা বিদআত শুরু করে দিলে? (দারেমী হা/২০৪, সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২০০৫)
তবে শরী
আত নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী যিকর করার অনেক ফযীলত রয়েছে। ফরয ছালাত শেষে আয়াতুল কুরসীসহ অন্যান্য দোআ সমূহ পাঠ করাকে হাদীছে যিকর বলা হয়েছে (দ্রঃ মিশকাত ছালাতের পর যিকর অনুচ্ছেদ)

শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১১

কবরস্থানে কুরআন খতম দেওয়া ও বখশানোর কোন দলীল আছে কি?


প্রশ্ন  : মোর্দাকে দাফন করার পর এক সপ্তাহের মধ্যে কবরস্থানে কুরআন খতম দেওয়া ও বখশানোর কোন দলীল আছে কি? অনুরূপভাবে কবরস্থানে সূরা ইয়াসীন, রহমান, মুল্ক ইত্যাদি পড়া যাবে কি?

উত্তর : মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে কুলখানী, চেহলাম, কুরআন খানি, কবরস্থানে গিয়ে বিভিন্ন সূরা পাঠ করা, কুরআন বখশানো সবই কুসংস্কার ও বিদ
আত। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম থেকে এধরনের কোন প্রথা প্রমাণিত নয় (বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), পৃঃ ১৯৪-২০২)