মানত-ওয়াদা-কসম-কাফফারা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মানত-ওয়াদা-কসম-কাফফারা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৪ মার্চ, ২০১২

মানত করা যাবে কি?

প্রশ্ন  : অনেকে মানত করে থাকে, আমার ছেলে ভালভাবে বিদেশ থেকে ফিরলে ৫-১০ জন ইয়াতীম-মিসকীন খাওয়াব। কিংবা মেয়ের রোগ ভাল হলে মসজিদ বা মাদরাসায় এত টাকা দান করব। এভাবে মানত করা যাবে কি?

উত্তর : শারী‘আত অনুমোদিত যে কোন নেকীর কাজ করার মানত করলে তা বৈধ হবে। যেমন প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ যদি আল্লাহর আনুগত্য করার ক্ষেত্রে কোন মানত হয় এবং তা কোন শরী‘আত বিরোধী কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয় তাহলে তা করা যাবে এবং তা অবশ্যই পূর্ণ করতে হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করবে সে যেন তা করে, আর যে তাঁর নাফরমানী করার মানত করবে সে যেন তা না করে
(বুখারী, মিশকাত হা/৩৪২৭)

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১১

অনেকে পবিত্র কুরআনের কসম করে থাকে।


প্রশ্ন  : অনেকে পবিত্র কুরআনের কসম করে থাকে। এটা কি শরীআত সম্মত? কার নামে কসম করতে হবে?

উত্তর : আল্লাহর নামেই কসম করতে হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৪০৭; আবুদাঊদ হা/৩২৪৭-৫১)রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কসম করে সে শিরক করে (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩৪১৯)। তবে পবিত্র কুরআনেরও কসম করা যায়। কেননা কুরআন আল্লাহর কালাম (বুখারী হা/৭৪১৭-এর পূর্বের আলোচনা দ্রঃ)। আল্লাহর ছিফাত সমূহ দ্বারা কসম করা জায়েয। যেমন আল্লাহর ইযযত ও কুদরতের কসম, তাঁর কালামের কসম ইত্যাদি (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : বায়হাক্বী সুনানুল কুবরা ১০/৪১ পৃঃ, সনদ ছহীহ; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১১৬৭)

শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১১

আমানতের খেয়ানত বলতে কী বুঝায়?


প্রশ্ন  : আমানতের খেয়ানত বলতে কী বুঝায়? কারো নিকট কোন কথা বললে ও তা অন্যের নিকট প্রকাশ করে দিলে তা কি আমানতের খেয়ানত হবে?
 
উত্তর : আমানতের খেয়ানত করা মুনাফিকের আলামত সমূহের অন্যতম। কারো নিকট কোন কথা আমানত স্বরূপ বললে তা অন্যের নিকট প্রকাশ করে দিলে তা আমানতের খেয়ানত হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি। (১) যখন সে কথা বলে, তখন সে মিথ্যা বলে (২) আর যখন সে অঙ্গীকার করে, তখন তা ভঙ্গ করে (৩) এবং যখন তার নিকট কিছু গচ্ছিত রাখা হয়, তখন সে খেয়ানত (আত্মসাৎ) করে (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৮)

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১১

জনৈক ব্যক্তি কোনদিন বিবাহ করবেন না


প্রশ্ন  : জনৈক ব্যক্তি কোনদিন বিবাহ করবেন না মর্মে একাধিক বার কসম করেন। পরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর হাদীছ জানতে পেরে তওবা করে কসম ফিরিয়ে নেন এবং এর কাফফারা দিতে চান। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে একই কসম বার বার করায় এর কাফফারার নিয়ম কিরূপ হবে?

উত্তর : কেউ যদি একই বিষয়ে একাধিকবার কসম করে এবং তা ভঙ্গ না করে তাহ’লে তা একই কসমের অন্তর্ভুক্ত হবে। তাই উক্ত ব্যক্তি যদি এখন রাসূলের কথা জানতে পারে এবং তওবা করে কসম ভঙ্গ করে, তাহ’লে তাকে একটি কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে। কসম ভঙ্গের কাফফারা হচ্ছে, দশজন মিসকীনকে খাদ্য দান করা, মধ্যম শ্রেণীর খাদ্য, যা স্বীয় পরিবারকে দিয়ে থাকে। অথবা তাদেরকে পরিধেয় বস্ত্র দান করা অথবা একটা ক্রীতদাস আযাদ করা, আর কোন ব্যক্তি (এগুলোর কোন একটিও করতে) সমর্থ না হ’লে সে তিন দিন ছিয়াম পালন করবে
(মায়েদাহ ৮৯)। মধ্যম মানের খাদ্য বলতে হাদীছে এক মুদ গমের কথা বলা হয়েছে (বায়হাক্বী ৪/২৫৪)। অতএব এক ছা‘-এর সিকি হিসাবে ৬২৫ গ্রাম চাউল প্রতি মিসকীনকে দিতে হবে।

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১১

কেউ যদি বলে কুরআনের কসম


প্রশ্ন  : কেউ যদি বলে কুরআনের কসম বা কা‘বার কসম তাহ’লে কি শিরক হবে?

উত্তর : মানুষ কসম করতে পারে কেবলমাত্র আল্লাহর নামে (বুখারী হা/৩৮৩৬, মুসলিম হা/৪৩৪৮)। অন্যের নামে কসম করা শিরক (তিরমিযী, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৩৪১৯)। ইবনুল আরাবী বলেন, যদি কোন ব্যক্তি জেনে-শুনে এরূপ শপথ করে, সে ব্যক্তি কাফির। আর যদি কেউ অজ্ঞতার বশে বা নিজের অজান্তে বলে ফেলে, তবে পরক্ষণেই
لا اله الا الله বললে তার অন্তর ভুল থেকে সঠিকতার দিকে ঘুরে যায় (ফাৎহুল বারী হা/৪৫৭৯)

শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০১১

কোন্ জিনিস দ্বারা মানত করা যায়?


প্রশ্ন  : কোন্ জিনিস দ্বারা মানত করা যায়? ছালাত, ছিয়াম, টাকা-পয়সা, ফল-মূল, মোমবাতি, আগরবাতি, খিঁচুড়ী এসব মানত করা যায় কি?

উত্তর : সকল নেকীর কাজের দ্বারা মানত করা যায়। মানত হচ্ছে যরূরী নয় এমন কিছু কাজকে নিজের উপর যরূরী করে নেয়া। নেকীর কাজের মানত করলে তা পালন করতে হবে। আর পাপের কাজের মানত করলে তা পালন করতে হবে না (বুখারী, মিশকাত হা/৩৪২৭)। শিরক ও বিদ‘আতী কোন দিবস বা স্থানে কোন মানত করা যাবে না (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৪৩৭ ‘শপথ ও মানত’ অধ্যায়)

বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০১১

মসজিদে প্রদত্ত মানতের জিনিস


প্রশ্নঃ  : মসজিদে প্রদত্ত মানতের জিনিস বিক্রি করে সে অর্থ মসজিদের কাজে লাগানো যাবে কি?

উত্তর : এটা মানতকারীর নিয়তের উপরে নির্ভরশীল (ফাতাওয়া লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২য় খন্ড, নযর অধ্যায়, পৃঃ২৯৩-৯৪; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১)। সুতরাং মসজিদের জন্য মানত করলে তা মসজিদের কাজে লাগাবে।

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০১১

আমি যদি ঐ জমিতে যাই তাহ’লে


প্রশ্ন  : বাড়ী করার জন্য পিতা-মাতা আমাকে একখন্ড জমি দান করেন। কিন্তু আমি ভাইদের সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে বলে ফেলি যে, আমি যদি ঐ জমিতে যাই তাহলে মুসলিম থেকে খারিজ হয়ে যাব। এখন ঐ জমিতে যেতে আমার করণীয় কি?

উত্তর : পিতা-মাতা কোন ছেলেকে এককভাবে অধিক সম্পদ দিতে পারবেন না। বরং সবাইকে সমানভাবে দিতে হবে (বুখারী হা/২৫৮৬-৮৭
হেবা ও তার ফযীলত অধ্যায়)। অতঃপর বর্তমান অবস্থায় খালেছ অন্তরে তওবা করতে হবে এবং কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে (মুসলিম শপথ অধ্যায়, হা/১২ (১৬৫০)। কসম ভঙ্গের কাফফারা হল দশজন মিসকীনকে মধ্যম মানের খাদ্য খাওয়ানো। অথবা তাদের কাপড় দান করা কিংবা একটি দাস মুক্ত করা। এতে অসমর্থ হলে তিন দিন ছিয়াম পালন করা (মায়েদাহ ৮৯)

বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১১

পিতা-মাতার নামে কসম খাওয়া


প্রশ্ন  :  পিতা-মাতার নামে কসম খাওয়া যাবে কি? রাসূল (ছাঃ) নিজের পিতার নামে কসম খেয়েছেন (আবুদাউদ)।

উত্তর : পিতা-মাতার নামে কসম খাওয়া যাবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেছেন তোমাদের বাপ-দাদাদের নামে কসম করতে। যে ব্যক্তি কসম করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে, অথবা চুপ থাকে
(মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৪০৭ কসম ও মানত অধ্যায়)। আবুদাঊদে বর্ণিত উক্ত হাদীছটি যঈফ (যঈফ আবুদাঊদ হা/৩৮১৭; মিশকাত হা/৪২৬১ খাদ্যসমূহ অধ্যায় ২ অনুচ্ছেদ)

বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১১

আল্লাহর কসম! আমি বাকী জীবনে


প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি পবিত্র কুরআন নিয়ে দৃঢ়ভাবে শপথ করে যে, আল্লাহর কসম! আমি বাকী জীবনে এই পাপ আর করব না। কিন্তু শয়তানের ধোঁকায় পড়ে পুনরায় ঐ পাপে লিপ্ত হলে তার হুকুম কী?

উত্তর: কুরআন মজীদে হাত দিয়ে শপথ করা শারঈ তরীকা নয় এবং পাপ মুক্ত হওয়ারও পদ্ধতি নয়। বরং ক্ষমা পেতে হ
লে আল্লাহ্র নিকট তওবা করতে হবে। পাপ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে, পুনরায় না করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের লক্ষ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। যদি পুনরায় একই পাপে জড়িয়ে পড়ে তাহলে আবার তওবা করতে হবে।
তবে শপথ ভঙ্গ করার কারণে কাফফারা দিতে হবে। এর কাফফারা হচ্ছে- (১) দশজন মিসকীনকে খাওয়ানো (২) অথবা তাদের পোষাক প্রদান করা (৩) অথবা দাস-দাসী মুক্ত করা (বর্তমানে এটি নেই)। এগুলো করার সামর্থ্য না থাকলে তিনদিন ছিয়াম পালন করবে (মায়েদাহ ৫/৮৯)

বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০১১

কসম ভঙ্গের কাফফারা

প্রশ্ন : জনৈক আলেম বলেন, কসম ভঙ্গের কাফফারা হচ্ছে একটানা ৩টি ছিয়াম পালন করা। মাঝে একটি ছুটে গেলে তিনটির সাথে আরো একটি যোগ করতে হবে। এ বক্তব্য কি সঠিক?

উত্তরঃ কসমের কাফফারা হচ্ছে ১০ জন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করা অথবা একজন দাসকে মুক্ত করা কিংবা তিনদিন ছিয়াম পালন করা (মায়েদাহ ৫/৮৯)। আল্লাহ এখানে পর পর ছিয়াম পালনের কথা বলেননি। কাজেই কসমের কাফফারার ছিয়াম পালন করার সময় বিশেষ কারণে একটি ছুটে গেলে তার জন্য আরো একটি ছিয়াম বেশী করে চারটি পালন করতে হবে না। বরং মোট ৩টিই করতে হবে। কেননা আল্লাহ বলছেন, ‘তোমরা তোমাদের সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর
(তাগাবুন ৬৪/১৬)

শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

দান করবেন বলে মানত করেন


প্রশ্ন : জনৈক অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থতা লাভ করলে মসজিদে ১০ শতক জমি দান করবেন বলে মানত করেন। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর উক্ত জমি মসজিদের পরিবর্তে গোরস্থানে দিতে চায়। এটা কি শরীআত সম্মত হবে?
উত্তর: মসজিদের জন্য মানত করে থাকলে মসজিদেই দিতে হবে। কারণ মসজিদের জমি মসজিদের স্বার্থে ব্যবহার করাই উত্তম। তবে জমিটি মসজিদের জন্য তেমন কোন কাজে না আসলে উপকারিতার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। যদি কবরস্থানের জন্য বেশী উপকার বিবেচিত হয়, তাহলে সেখানে দিবে (ফিক্বহুস সুন্নাহ ওয়াক্ফ অধ্যায় ৩/৩৮৫ পৃ:)।