রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১২

দেশে প্রচলিত লম্বা জামা ও টুপি কি সুন্নাতী পোষাক?


প্রশ্ন  : দেশে প্রচলিত লম্বা জামা ও টুপি কি সুন্নাতী পোষাক? দলীলভিত্তিক জানিয়ে বাধিত করবেন?

উত্তর : সুন্নাতী পোষাক কোনটি তা নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। কারণ সবদেশের আবহাওয়া ও পোষাক এক হওয়ার কথা নয়। তবে ইসলাম পোষাকের যে মূলনীতির কথা বলেছে লম্বা জামা ও টুপি সেই মূলনীতির মধ্যে পড়ে যায়। তাছাড়া মাথা ঢাকা বা টুপি পরা বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য (বুখারী হা/১১৯৮ ও ৩৮৫-এর অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা; আলোচনা দ্রঃ সিলসিলা যঈফাহ হা/২৫৩৮, ৬/৫১ পৃঃ)। মূলনীতিগুলো হল, (১) পোষাক পরিধানের উদ্দেশ্য থাকবে
 দেহকে  আবৃত  করা,  যেন  পোষাক  পরা  সত্ত্বেও
লজ্জাস্থান সমূহ অন্যের চোখে প্রকাশ না হয়ে ওঠে (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫২৪)। (২) ভিতরে-বাইরে তাক্বওয়াশীল হতে হবে। এজন্য ঢিলেঢালা, ভদ্র ও পরিচ্ছন্ন পোষাক পরিধান করতে হবে। হাদীছে সাদা পোষাক পরিধানের নির্দেশ এসেছে (আ
রাফ ২৬; মুসলিম, তিরমিযী, মিশকাত হা/৫১০৮, ৪৩৫০ ও ৪৩৩৭)। (৩) পোষাক যেন অমুসলিমদের সাদৃশ্য না হয় (আহমাদ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭)। (৪) পুরুষরা রেশম কাপড়ের পোষাক পরিধান করতে পারবে না (ছহীহ্ নাসাঈ হা/৫২৬৫; মিশকাত হা/৪৩৪১) (৫) পোষাক যেন টাখনুর নীচে না যায় (নাসাঈ (হা/৫৩৩১)। (৬) পুরুষের পোষাক মহিলার পোষাকের এবং মহিলার পোষাক পুরুষের পোষাকের সাদৃশ্যপূর্ণ না হয় (আবুদাঊদ হা/৪০৯৮; মিশকাত হা/৪৪৬৯; দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ৩য় সংস্করণ, ৩৬-৩৮ পৃঃ)

ঘুমানোর সময় বা অন্য সময় ক্বিবলার দিকে পা রাখা যাবে কি?


প্রশ্ন  : ঘুমানোর সময় বা অন্য সময় ক্বিবলার দিকে পা রাখা যাবে কি? অনেক আলেম এটাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : ক্বিবলার দিকে পা রেখে ঘুমানোতে শরী
আতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। কিবলাকে সামনে রেখে কিংবা পেছনে রেখে টয়লেটের বাইরে খোলা স্থানে পেশাব-পায়খানা করতে নিষেধ করা হয়েছে (বুখারী হা/৩৯৪; মিশকাত হা/৩৩৪-৩৫)

নারী উন্নয়নের জন্য প্রণীত নারী নীতিমালা


প্রশ্ন : নারী উন্নয়নের জন্য প্রণীত নারী নীতিমালা কি শরীআত সম্মত? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : সরকারের গত মার্চ
১১-তে প্রণীত নারী উন্নয়ন নীতিমালা শরীআতের সাথে সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক। নারী অধিকার সংরক্ষণের নামে উক্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও এর দ্বারা নারীদেরকে আরো হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। বিগত চার দলীয় জোট সরকারের নারী নির্যাতন বিরোধী আইন যেমন পুরুষ নির্যাতনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, বর্তমান মহাজোট সরকারের নারী উন্নয়ন নীতি মালা তেমনি বুমেরাং হয়ে নারী নির্যাতনের হাতিয়ারে পরিণত হবে। এর দ্বারা নারীকে পুরুষের প্রতিদ্বন্দ্বী বানানো হয়েছে। যা কখনোই নারীর মর্যাদা রক্ষায় সহায়ক হবে না। বরং আরও ক্ষতির কারণ হবে। অথচ ইসলাম নারী ও পুরুষের জন্য যে সুষম নীতিমালা দিয়েছে, তাই হল বিশ্বমানবতার জন্য চিরন্তন কল্যাণময় নীতিমালা। তার বাইরে গেলে বিপর্যয় নিশ্চিত (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন : সম্পাদকীয় এপ্রিল ১১)

শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১২

জাতীয় নেতাদের কবরে যেয়ে আড়ম্বরের সাথে


প্রশ্ন  : বর্তমানে জাতীয় নেতাদের কবরে যেয়ে  আড়ম্বরের সাথে রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী বা পরিবারের সদস্যদের হাত তুলে ফাতেহা পাঠের যে প্রচলন দেখা যায়, কুরআন ও হাদীছে এর কোন দলীল আছে কি?

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বা ছাহাবায়ে কেরাম থেকে এভাবে ফাতেহা পাঠের কোন দলীল নেই (আলবানী, তালখীছু আহকামিল জানায়েয ৮২ পৃঃ)। সুতরাং এটি নিঃসন্দেহে বিদআত। যা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করল যার ব্যাপারে আমার কোন নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (মুত্তাফাক আলাইহ, মিশকাত হা/১৪০)। ইসলামী শরীঅতে কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্য হল মৃত্যু ও আখেরাতকে স্মরণ করা এবং মৃতের জন্য আল্লাহর নিকট মাগফেরাত কামনা করা। তাই যিয়ারতের সময় মৃতের জন্য কেবল এই দোআ করাই যথেষ্ট, যা রাসূল (ছাঃ) শিখিয়ে দিয়েছেন,السَّلاَمُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُسْلِمِيْنَ وَيَرْحَمُ اللهُ الْمُسْتَقْدِمِيْنَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَلاَحِقُون َنسأل الله لنا ولكم العافية  মুমিন ও মুসলিম কবরবাসীদের উপর শান্তি বর্ষিত হৌক। আমাদের অগ্রবর্তী ও পরবর্তীদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আল্লাহ চাহে তো আমরা অবশ্যই আপনাদের সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি। আমাদের ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে মঙ্গল কামনা করছি (মুসলিম, মিশকাত হা/১৭৬৪-৬৭)
উল্লেখ্য যে, এই দোআর সময় একাকী দুহাত উঠানো যাবে, দলবদ্ধভাবে নয়। বাক্বী গোরস্থানে দীর্ঘক্ষণ একাকী দোআ করার সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তিন বার হাত উঠিয়েছিলেন (মুসলিম হা/২২৫৫(৯৭৪), জানায়েয অধ্যায়)। দ্বিতীয়তঃ এইসব যেয়ারতের উদ্দেশ্য থাকে মূলতঃ দুনিয়া। যেখানে নেতা-নেত্রী বা জনগণ বা গদ্দীনশীন পীরকে খুশী করাই লক্ষ্য থাকে। যা শিরকের পর্যায়ভুক্ত। এ ধরনের লোক দেখানো যিয়ারত ও দোআ আল্লাহর নিকটে কবুল হবে না (কাহফ ১১০)

অমুসলিমদের নিকট থেকে সহযোগিতা নেওয়া যাবে কি?


প্রশ্ন  : মাদরাসা ও ইসলামী সম্মেলনের জন্য অমুসলিমদের নিকট থেকে সহযোগিতা নেওয়া যাবে কি?
 
উত্তর : উপার্জন হালাল হ
লে তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নেয়া যাবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অমুসলিমদের নিকট থেকে বিভিন্ন সময়ে হাদিয়া গ্রহণ করেছেন (বুখারী হা/২৬১৫-১৮ মুশরিকদের নিকট থেকে হাদিয়া গ্রহণ অনুচ্ছেদ)। কিন্তু ঈমান না থাকার কারণে তারা আখেরাতে কোন প্রতিদান পাবেনা। কেবল দুনিয়াতে কিছু পাবে(শূরা ২০)