মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১২

বর্তমানে জমি বন্ধক নেওয়া হচ্ছে এভাবে-


প্রশ্ন  : বর্তমানে জমি বন্ধক নেওয়া হচ্ছে এভাবে- দশ বা ত্রিশ হাযার টাকা কেউ অন্যের নিকট থেকে নিচ্ছে এক বিঘা বা দুই বিঘা জমি তাকে দিচ্ছে। ঐ টাকা যতদিন ফেরত না দিবে ততদিন সে জমি ভোগ করতে থাকবে। উক্ত পদ্ধতি কি শরীআত সম্মত ?

উত্তর : উক্ত পদ্ধতি শরী
আত সম্মত নয়। কারণ ঋণের বিনিময়ে মুনাফা অর্জন করা সূদের অন্তর্ভুক্ত। যদিও সেটা উভয়ের সম্মতিক্রমে হয়। সেখান থেকে কিছু টাকা ছেড়ে দিলে হালাল হবে বলে যে কথা সমাজে চালু আছে সেটিও হীলা বা অপকৌশল মাত্র। কেবলমাত্র টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তার স্বার্থে কোনরূপ লাভ না নিয়ে জমি বন্ধক নেয়া শরীআত সম্মত (দ্রঃ ফিক্বহুস সুন্নাহ ৩/১৯৬; বুখারী, মিশকাত হা/২৮৩৩ সূদ অনুচ্ছেদ)। জমি তার মালিকের ব্যবহারে থাকবে, যাতে সে তার উৎপন্ন ফসলের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পায়। পক্ষান্তরে জমিটি ঋণদাতার নামে বন্ধকী রেজিষ্ট্রি থাকবে, যাতে তার ঋণের টাকা মার না যায়। ঋণ দেওয়ার সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত থাকতে হবে, দুনিয়াবী লাভের নিয়ত রাখা যাবে না। আল্লাহ বলেন, কে আছে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করবে? তিনি তাকে দ্বিগুণ ও বহু গুণ প্রতিদান প্রদান করবেন। আল্লাহ রূযী সংকুচিত ও বর্ধিত করে থাকেন। আর তাঁর নিকটেই তোমাদের ফিরে আসতে হবে (বাক্বারাহ ২/২৪৫)

রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১২

জনৈক ব্যক্তি খুবই আমলদার ছিলেন।


প্রশ্ন  : জনৈক ব্যক্তি খুবই আমলদার ছিলেন। তিনি মারা যাওয়াতে অনেকে কষ্টও পেয়েছেন। কিন্তু তিনি ছিলেন একজন গোঁড়া বিদআতী। তার কোন আমল কাজে আসবে কি?

উত্তর : কোন ব্যক্তির আমল যদি ছহীহ সুন্নাহ মোতাবেক না হয়, তাহ
লে তা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। `সেটাকে সুন্দর আমল মনে করলেও ঐব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত আমলকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে (কাহফ ১০৩-৪)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, কেউ যদি এমন কোন আমল করে, যার নির্দেশ আমাদের পক্ষ থেকে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৪০)। অতএব বিদআতীর কোন আমল পরকালে কাজে লাগবে না।

শুক্রবারে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়


প্রশ্ন  : শুক্রবারে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং সেদিন কেউ মারা গেলে বিনা হিসাবে জান্নাতে চলে যায়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?

উত্তর : উক্ত মর্মে কোন ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না। তবে কোন মুসলিম ব্যক্তি শুক্রবারে মারা গেলে সে কবরের ফিৎনা হ
তে বেঁচে যাবে মর্মে ছহীহ দলীল রয়েছে (আহমাদ, তিরমিযী হা/১০৯৫, সনদ হাসান; মিশকাত হা/১৩৬৭, `জুম অনুচ্ছেদ)। এখানে `ফিৎনা বলতে সওয়াল-জওয়াব ও কবরের আযাব বুঝানো হয়েছে। এটি ব্যতিক্রম বা খাছ বিষয়। এর মধ্যে যুক্তির কোন সুযোগ নেই। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, স্থান ও কালের একটি বিশেষ প্রভাব রয়েছে। (দ্রঃ মির‘আত ৪/৪৪০-৪১)

আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কত জায়গায় কুরআনকে হাদীছ বলেছেন?


প্রশ্ন  : আল্লাহ তাআলা কুরআনে কত জায়গায় কুরআনকে হাদীছ বলেছেন?

উত্তর : ১৪টি স্থানে আল্লাহ কুরআনকে `হাদীছ
বলেছেন। যেমন নিসা ৭৮ ও ৮৭, আরাফ ১৮৫, ইউসুফ ১১১, কাহফ ৬, ত্বোয়া-হা ৯, যুমার ২৩, জাছিয়াহ ৬, তূর ৩৪, নাজম ৫৯, ওয়াক্বিআহ ৮১, ক্বলম ৪৪, মুরসালাত ৫০ ও গাশিয়াহ ১ (দ্রঃ থিসিস পৃঃ ৩৬)

আগে অছিয়ত পালন করতে হবে না সম্পদ বণ্টন করবে?


প্রশ্ন  : পিতা ছেলেকে তার পক্ষ থেকে হজ্জ করার জন্য অছিয়ত করে গেলে আগে অছিয়ত পালন করতে হবে না সম্পদ বণ্টন করবে?

উত্তর : আগে পিতার অছিয়ত পালন করবে, তারপর সম্পদ বণ্টন করবে। আল্লাহ তা`আলা প্রথমে অছিয়ত বাস্তবায়ন ও কর্য পরিশোধের আদেশ দিয়েছেন (নিসা ১১-১২)

জারজ সন্তান প্রতিপালন করা যাবে কি?


প্রশ্ন  : জারজ সন্তান প্রতিপালন করা যাবে কি? এজন্য ঐ ব্যক্তি কোন ছওয়াব পাবে কি?
 
উত্তর : পরিচিত বা অপরিচিত যেকোন জারজ সন্তান পালন করা যাবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ব্যভিচারিণী গামেদী মহিলার জারজ সন্তানকে জনৈক ছাহাবীর হাতে দিয়ে তাকে লালন-পালনের জন্য আদেশ করেন (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫৬২)। কারণ জারজ হওয়ার জন্য সন্তান দায়ী নয়। অতএব তাকে লালন-পালনের জন্য অবশ্যই ছওয়াব রয়েছে। আল্লাহ বলেন, `মুমিন পুরুষ বা নারী যে কোন সৎকর্ম করলে আমরা তার বিনিময়ে সর্বোত্তম প্রতিদান দেব
(নাহল ৯৭)