মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১১

কোন অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করলে তার খাৎনা করা


প্রশ্ন  : কোন অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করলে তার খাৎনা করা লাগবে কি?

উত্তর : খাৎনা করা মুস্তাহাব। কেননা এটি ইসলাম ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য স্বরূপ। এটি হ
ল মানুষের ফিৎরত বা স্বভাবজাত পাঁচটি বিষয়ের অন্যতম (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৪২০ পোষাক অধ্যায় চুল আঁচড়ানো অনুচ্ছেদ)। এর মধ্যে যে স্বাস্থ্যগত কল্যাণ নিহিত রয়েছে, সে বিষয়ে সকল স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী একমত। ইবরাহীম (আঃ) ৮০ বছর বয়সে আল্লাহর হুকুমে খাৎনা করেছিলেন (বুখারী হা/৩৩৫৬)। জনৈক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে বলেন, তুমি কুফরীর চুল ফেলে দাও এবং খাৎনা কর (আবুদাঊদ হা/৩৫৬ সনদ হাসান, ইরওয়া হা/৭৯)। এখানে কুফরীর চুল বলতে ঐ চুলকে বুঝানো হয়েছে, যা কুফরীর নিদর্শন হিসাবে গণ্য হয়। এই নিদর্শন বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন এদেশে হিন্দুদের অনেকের মাথায় টিকি থাকে বা মাথায় জটা থাকে। ইসলাম কবুলের পর এ চুল অবশ্যই কেটে ফেলতে হবে। এমনকি যদি গোফ লম্বা ও দাড়ি জট পাকানো থাকে, তবে তাও ইসলামী নিয়মে পরিবর্তন করতে হবে। যদি কেউ এসব থেকে মুক্ত থাকেন এবং মাথায় স্বাভাবিক চুল থাকে, তার জন্য মাথা মুন্ডানো যরূরী নয় (দ্রঃ আউনুল মাবূদ হা/৩৫২-এর ব্যাখ্যা)

কোন প্রসূতি বা ঋতুবতী মহিলা


প্রশ্ন  : কোন প্রসূতি বা ঋতুবতী মহিলা যদি ফজরের পূর্বেই পবিত্র হয় কিন্তু গোসল করতে না পারে, বরং ফজরের পরে গোসল করে, তাহলে তার ছিয়াম সিদ্ধ হবে কি?

উত্তর : সিদ্ধ হবে। কারণ তখন সে ঐ অপবিত্র ব্যক্তির মত, যে ছিয়াম রেখেছে কিন্তু ফজরের পূর্বে গোসল করতে পারেনি। আয়েশা (রাঃ) হ
তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর স্ত্রীদের সাথে সহবাসের পর অপবিত্র অবস্থায় সকাল করতেন এবং ছিয়াম রাখতেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২০০১ ছিয়াম অধ্যায় ৩ অনুচ্ছেদ)। অর্থাৎ তিনি ফজর হওয়ার পরে জানাবাতের গোসল করতেন।

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১

মুসলিম-অমুসলিম উভয় শ্রেণীর লোক


প্রশ্ন  : কোন স্থানে মুসলিম-অমুসলিম উভয় শ্রেণীর লোক থাকলে সেখানে সালাম দেওয়া যাবে কি?

উত্তর : সালাম দেওয়া যাবে। উসামা বিন যায়েদ (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদা একটি মজলিসের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, যেখানে মুসলিম, মুশরিক, মূর্তিপূজারী ও ইহুদীরা ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাদেরকে সালাম দিলেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৬৩৯
শিষ্টাচার অধ্যায় সালাম অনুচ্ছেদ)

পাগড়ী পরা কি সবার জন্যই সুন্নাত?


প্রশ্ন  : পাগড়ী পরা কি সবার জন্যই সুন্নাত? অনেকে চিল্লা দিয়ে পাগড়ী পরা শুরু করে। এ সম্পর্কে শরীআতের বিধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
 
উত্তর : পাগড়ী ব্যবহার করা কারো জন্যই সুন্নাত নয়। এটি হ
ল দেশ ও অঞ্চল ভিত্তিক আদত বা অভ্যাস। রসূল (ছাঃ) পাগড়ী পরেছিলেন এ কারণে যে, পাগড়ী পরিধান করা ছিল তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের অভ্যাসগত পোষাক। সে সময়ের আরব মুসলিম ও অমুসলিম সকলে পাগড়ী পরত। তিনি কখনও পাগড়ী (এমনকি টুপি) ব্যবহার করার নির্দেশও দেননি। পাগড়ী পরিধান করার ফাযীলত মর্মে কোন ছহীহ্ হাদীছও বর্ণিত হয়নি (বিস্তারিত দ্রঃ জাল ও যঈফ হাদীছ সিরিজ হা/১২৯, ১৫৯, ৩৯৫, ১২১৭, ১২৯৬, ২৩৪৭, ৩০৫২)। শায়খ উছায়মীন, শায়খ বিন বায এবং সঊদী আরবের সর্বোচ্চ ফাতাওয়া বোর্ড এ মর্মে ফৎওয়া দিয়েছেন যে, পাগড়ী ব্যবহার করা সুন্নাত নয়।

সঊদী আরবের ‘ওয়াদিয়ে হানীফ’


প্রশ্ন  : সঊদী আরবের ওয়াদিয়ে হানীফ নামক নালা দিয়ে পেশাব-পায়খানা ও বর্জ্য পানি বের হয়ে যায়। এসব পানি দেখতে স্বচ্ছ হলেও দুর্গন্ধযুক্ত। মরুভূমির ভিতর দিয়ে প্রবাহিত এ নালা কোথাও লেকের আকার ধারণ করেছে। এতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের জন্ম হয়। এসব মাছ খাওয়া বৈধ হবে কি?

উত্তর : রং, স্বাদ ও গন্ধ বিনষ্ট হ
লে সে পানি নাপাক। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জাল্লালাহ অর্থাৎ ময়লা-আবর্জনা ভক্ষণকারী প্রাণীর গোশত খেতে ও তার দুধ পান করতে এবং তার পিঠে আরোহন করতে নিষেধ করেছেন (আবুদাঊদ হা/৩৭৮৬; তিরমিযী হা/১৮২৫; নাসাঈ হা/৪৪৬০)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে এবং ময়লা-আবর্জনা ভক্ষণকারী প্রাণীর পিঠে চড়তে এবং তার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন (আবুদাঊদ হা/৩৮১১; নাসাঈ হা/৪৪৫৯)। ঐসব নাপাক খাদ্য ভক্ষণকারী হালাল প্রাণী, যেমন মুরগী, মাছ ইত্যাদিকে উক্ত ময়লা খাদ্য ও পানীয় থেকে কিছু দিন আটকে রেখে পবিত্র খাদ্য ও পানীয় খাওয়ানোর পর তার গন্ধ দূরীভূত হলে ও গোশত রুচিকর হয়েছে বলে নিশ্চিত হলে তা খাওয়া যাবে। ইবনু ওমর (রাঃ) ময়লা ভক্ষণকারী মুরগী তিনদিন আটকে রেখে তারপর যবহ করে খেতেন (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, ইরওয়া হা/২৫০৫)। অতএব উক্ত লেক-এর মাছ ধরে কিছুদিন পবিত্র পানিতে রেখে দুর্গন্ধ দূরীভূত হলে তা খাওয়া বৈধ হবে।

মুছাফাহা করার পর বুকে হাত


প্রশ্ন  : আমরা মুছাফাহা করার পর বুকে হাত দেই। এই আমলের পক্ষে নাকি কোন দলীল নেই। উক্ত কথা কি সঠিক?
 
উত্তর : উক্ত কথা সঠিক। মুছাফাহা করার পরে বুকে হাত দেয়া কিংবা হাতে চুমু দেয়া বা মাথা ঝুঁকানো ইসলামী রীতি নয়। বরং এগুলি বিদ
আতী কাজ। ছহীহ হাদীছে মুছাফাহা করার পদ্ধতি বলে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ পরস্পরের ডান হাত মিলানো।

ক্বিয়ামতের মাঠে সর্বপ্রথম কাকে কবর থেকে উঠানো হবে?

প্রশ্নঃ  : ক্বিয়ামতের মাঠে সর্বপ্রথম কাকে কবর থেকে উঠানো হবে?

উত্তর : শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)- কে সর্বপ্রথম কবর থেকে উঠানো হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৭৪১
ফাযায়েল ও শামায়েল অধ্যায়)