রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১১

‘ওয়া‘তাছিমু বিহাবলিল্লা-হি জামী‘আওঁ ওয়ালা তাফাররাকূ’


প্রশ্ন : বিভিন্ন তরীকা ও মাযহাবে বিভক্ত মুসলিম মিল্লাতের জন্য ‘ওয়া‘তাছিমু বিহাবলিল্লা-হি জামী‘আওঁ ওয়ালা তাফাররাকূ’ এ আয়াতের নির্দেশ কিভাবে বাস্তবায়িত হবে?

উত্তর: রাসূলুল্লাহ (ছা:) বলেছেন, ... একটি মাত্র দল জান্নাতে যাবে। আর সে দলটির পরিচয় হিসাবে তিনি বলেন, আমি এবং আমার ছাহাবীগণ যার উপর আছি
(ছহীহ তিরমিযী হা/২৬৪১; মিশকাত হা/১৭১)। অতএব রাসূল ও ছাহাবীদের গুণাবলী সম্পন্ন জান্নাতী দলে অন্তর্ভুক্ত হ’তে পারলে এবং পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহকে সর্বক্ষেত্রে শর্তহীনভাবে মেনে চললে ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব। উক্ত আয়াতে ঐক্যের জন্য হাবলুল্লাহকে আঁকড়ে ধরার শর্ত করা হয়েছে, আব্দুল্লাহকে নয়। অতএব যারাই হাবলুল্লাহকে আঁকড়ে ধরবেন তাদের সাথেই ঐক্য করতে হবে, তাই তিনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন। অন্তত: আক্বীদাগত ঐক্য গড়ায় কোন বাধা নেই।

তাহাজ্জুদ ছালাত সর্বনিম্ন কত রাক‘আত


প্রশ্ন: : তিন রাক‘আত বিতর ব্যতীত তাহাজ্জুদ ছালাত সর্বনিম্ন কত রাক‘আত আদায় করা যায়?

উত্তর: বিতর ব্যতীত তাহাজ্জুদ ছালাতের সর্বনিম্ন রাক‘আত সংখ্যা হচ্ছে দুই (মুসলিম হা/১৩৯, ‘মুসাফিরের ছালাত’ অধ্যায়)। এছাড়া রাসূলুল্লাহ (ছা:) বলেছেন, রাতের (নফল) ছালাত দু’রাক‘আত দু’রাক‘আত’ (বুখারী হা/৪৭২; মুসলিম হা/৭৪৯; মিশকাত হা/১২৫৪)। অতএব সর্বনিম্ন দু’রাক‘আতও আদায় করা যাবে (বিস্তরিত দ্র: ছালাতুর রাসূল (ছা:), পৃ: ১০১)

দোকানে বা বাসায় একাকী ছালাত


প্রশ্ন : ব্যবসার ব্যস্ততার কারণে জামা‘আতে ছালাত আদায়ের পরিবর্তে মাঝে মধ্যে দোকানে বা বাসায় একাকী ছালাত আদায় করলে ছালাত হবে কি?

উত্তর: ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকলেও জামা‘আতে ছালাত আদায় করা উচিত। কারণ ইসলাম মসজিদে গিয়ে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৭০২ ও ১০৫২)। তাছাড়া অন্য হাদীছে এসেছে, আযান শুনার পরেও গ্রহণযোগ্য ওযর ছাড়া মসজিদে না আসলে ছালাত হবে না (ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/৭৯৩; মিশকাত হা/১০৭৭)। এক্ষণে উক্ত অবস্থায় ছালাত হয়ে যাবে। কিন্তু নেকী কম হবে (ছহীহ আবুদাঊদ হা/৭৯৬, সনদ হাসান)

এটা কি বৈধ হবে?


প্রশ্ন : আমাদের এলাকার সার, ডিজেল ও মুদির দোকানদাররা বাকী বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ২০% জোরপূর্বক লাভ নিয়ে থাকে। এটা কি বৈধ হবে?

উত্তর: জোরপূর্বক ২০% বেশী নেয়া যুলুম করার শামিল। অতএব তা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে বাকীতে এক দাম আর নগদে এক দাম এভাবে বিক্রি করা জায়েয আছে (আবুদাঊদ হা/৩৪৬১; আওনুল মা‘বূদ হা/৩৪৫৭-এর আলোচনা ৯/২৩৮)। ক্রেতা এক্ষেত্রে তার সামর্থ্য অনুযায়ী যে মূল্যে ক্রয় করতে সক্ষম সে মূল্যে ক্রয় করবে।

মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১১

সরকারী জমিতে সরকারের অনুমতিক্রমে অস্থায়ীভাবে মসজিদ নির্মাণ


প্রশ্ন : মসজিদের নিজস্ব জমিতে স্থায়ীভাবে মসজিদ নির্মাণের স্বার্থে নির্মাণকালীন সময়ের জন্য পার্শ্ববর্তী সরকারী জমিতে সরকারের অনুমতিক্রমে অস্থায়ীভাবে মসজিদ নির্মাণ করে সেখানে জুম‘আ-জামা‘আত কায়েম করা যাবে কি?

উত্তরঃ উক্ত মর্মে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে অস্থায়ীভাবে মসজিদ নির্মাণ করে সেখানে জুম‘আ-জামা‘আত কায়েম করা যাবে। আনাস (রাঃ) বলেন, মদীনায় হিজরত করার পর মসজিদ নির্মাণের স্বার্থে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বনু নাজ্জারকে বললেন, তোমরা তোমাদের বাগানটি আমার নিকটে বিক্রয় করে দাও। জবাবে তারা বলল, আমরা আপনার নিকট থেকে এর বিনিময়ে কোন মূল্য নেব না। কেবল আল্লাহর নিকট থেকে বিনিময় চাই। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) তাদের সম্মতিক্রমে সেটি গ্রহণ করলেন ও সেখানে মসজিদ নির্মাণ করলেন
(বুখারী হা/১৮৬৮ ‘মদীনার মর্যাদা’ অধ্যায় ১ অনুচ্ছেদ; মুসলিম হা/১২০১ ‘মাসাজিদ’ অধ্যায় ২ অনুচ্ছেদ; আবুদাঊদ হা/৪৫৩ ‘ছালাত’ অধ্যায় ১২ অনুচ্ছেদ; নাসাঈ হা/৭১০, ইবনু মাজাহ হা/৭৯১)। মৌখিক অনুমতিই যথেষ্ট। তবে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কল্যাণ বিবেচনায় লিখিত অনুমতি বাঞ্ছনীয়। কেননা এটি একটি সাময়িক চুক্তির মত বিষয়। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও.. (বাক্বারাহ ২৮২)। ৬ষ্ঠ হিজরীতে হোদায়বিয়ার সন্ধিকালে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কুরায়েশদের সঙ্গে লিখিত চুক্তি করেছিলেন (বুখারী হা/৪০০৫ ‘যুদ্ধ-বিগ্রহ’ অধ্যায় ৪১ অনুচ্ছেদ; ঐ, মিশকাত হা/৪০৪২, ৪৪ ‘জিহাদ’ অধ্যায় ‘সন্ধি’ অনুচ্ছেদ)
পরবর্তীতে স্থায়ী মসজিদে গমনের পর অস্থায়ী মসজিদটি উঠিয়ে দিয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ায় কোন দোষ নেই। ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) কূফার পুরানো মসজিদ অন্যত্র স্থানান্তর করেন এবং পরিত্যক্ত স্থানটি খেজুর ব্যবসায়ীদের বাজারে রূপান্তরিত করেন (মুগনী ইবনু কুদামাহ (বৈরুতঃ দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, তাবি) ৬/২২৬, ২৪৩; মাজমূ‘আ ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ ‘ওয়াক্বফ’ অধ্যায় ৩১/২১৫-১৭; মাজমূ‘আ ফাতাওয়া ছালেহ আল-উছায়মীন ‘ছালাত’ অধ্যায়, ফৎওয়া সংখ্যা ৩১৫)। অতএব সর্বোত্তম কল্যাণ বিবেচনায় সরকারী বা বেসরকারী কোন জমিতে সাময়িকভাবে মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেওয়ায় ও অনুমতিক্রমে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করায় এবং পরবর্তীতে তা স্থানান্তর করায় ও পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ায় শরী‘আতে কোন বাধা নেই (আলোচনা দ্রষ্টব্য: ফিক্বহুস সুন্নাহ (কায়রো : ১৪১২/১৯৯২) ‘ওয়াক্বফ’ অধ্যায়, ৩/৩০৮, ৩১৩ পৃঃ)

পবিত্র কুরআনে দাস প্রথা


প্রশ্ন : পবিত্র কুরআনে দাস প্রথা নিষিদ্ধ করা না হ’লেও বিদায় হজ্জের দিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তা রহিত করেছেন। শরী‘আতে এরূপ আর কী কী বিধান আছে যা কুরআনে নিষিদ্ধ করা হয়নি কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তা নিষিদ্ধ করেছেন?

উত্তরঃ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দাস প্রথাকে রহিত করেননি। বরং তিনি দাস-দাসীদেরকে মুক্ত করে দেয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। অমুসলিমদের সাথে জিহাদ সংঘটিত হ’লে এখনও দাস-দাসী সৃষ্টি হ’তে পারে। জানা আবশ্যক যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফায়ছালাকে কেউ মেনে নিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগলে সে মুমিন হ’তে পারবে না (নিসা ৬৫; আহযাব ৩৬)। ইসলামে অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো কুরআনে নিষিদ্ধ করা হয়নি। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিষিদ্ধ করেছেন। যেমন গৃহ পালিত গাধার গোশ্ত খাওয়া, হিংস্র প্রাণীর গোশ্ত খাওয়া, কবরের উপর ঘর নির্মাণ করা, চুনকাম করা, সেখানে বসা ও লিখা, যেনার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ, গণকের উপার্জিত অর্থ, ফসল পরিপক্ক হওয়ার পূর্বে বিক্রয় করা, যুদ্ধের সময় কাফের শিশু ও নারীদেরকে হত্যা করা ইত্যাদি। কুরআনে না থাকলেও এগুলো আল্লাহর ‘অহি’ মোতাবেক তিনি নিষিদ্ধ করেছেন (নাজ্ম ৩-৪)। 

লোকজনের চাপে ৫ লক্ষ টাকা মোহর


প্রশ্ন : আমি বিবাহের সময় কনের পক্ষের লোকজনের চাপে ৫ লক্ষ টাকা মোহর ধার্য করে বিবাহ করি, যার সম্পূর্ণটা বাকী। কিন্তু স্ত্রীর সম্মতিতে ও কাযীর পরামর্শে কাবিন নামায় গহনা বাবদ ২ লক্ষ টাকা নগদ ও ৩ লক্ষ টাকা বাকী উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এসব টাকার কিছুই পরিশোধ করা হয়নি। উক্ত বিবাহ কি বৈধ হয়েছে? এখন আমাকে কি ঐ সমুদয় টাকা পরিশোধ করতে হবে? বর্তমানে পুনরায় মোহর নির্ধারণের কোন সুযোগ আছে কি?

উত্তরঃ উক্ত বিবাহে মোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে ধোঁকাবাজির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তবে বিয়ে বৈধ হয়েছে। ধার্য মোহরানা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। পুনরায় মোহর নির্ধারণের কোন সুযোগ নেই। অবশ্য স্ত্রী স্বেচ্ছায় কিছু অংশ ক্ষমা করতে পারেন (নিসা ৪)। কিন্তু তার কাছে এজন্য কিছু চাওয়া যাবে না।