মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

‘আল্লাহুম্মা হসসানতা খালক্বী ফা আহসিন খুলুক্বী’


প্রশ্নঃ       আল্লাহুম্মা হসসানতা খালক্বী ফা আহসিন খুলুক্বী আয়না দেখার এই দোয়ার প্রমাণে বর্ণিত হাদীসকে কোন কোন লেখক যঈফ বলেছেন এবং ইরইয়ালুল গালীল গ্রন্থের উদ্ধৃতি পেশ করা হয়েছে এর সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন

উত্তরঃ      উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীসের সনদ সহীহ (আহমাদ , বায়হাক্বী , মিশকাত হা /৫০৯৯ ; ইরইয়ালুল গালীল হা/৭৪) উল্লেখ্য , উক্ত দোয়ার শেষে ওয়া হার্রিম ওয়াজহী আলান না- বলে যে অতিরিক্ত অংশ প্রচলিত আছে সেই অংশটুকু যঈফ (দ্রঃ ইরইয়া হা/৭৫ , ১ম খন্ড , পৃঃ-১১৩)

মোবাইলে গান-বাজনা ও অশ্লীল ছবি


প্রশ্নঃ       অনেকের মোবাইলে গান-বাজনা ও অশ্লীল ছবি থাকে এসব মোবাইল সাথে নিয়ে সালাত আদায় করা যাবে কি ?

উত্তরঃ      মোবাইলে গান-বাজনা রাখা ও তা শ্রনণ করা হারাম (সূরা লোকমান-) ইসলাম প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার অশ্লীলতাকে হারাম করেছে (রাফ-৩৩) সুতরাং এগুলো থেকে বিরত থাকা আবশ্যক তবে এসব সেট বন্ধ রেখে সালাত আদায় করলে সালাত হয়ে যাবে

ঈদগাহের সামনে কবর


প্রশ্নঃ       ঈদগাহের সামনে কবর থাকলে তাতে সালাত আদায় করা যাবে কি ?

উত্তরঃ      ঈদগাহের সামনে দিয়ে যদি প্রাচীর থাকে অথবা কবর যদি দূরে পৃথক জমিতে থাকে , তাহলে সালাত হবে রাসূল (সাঃ) বলেন , তোমরা কবরের উপর বসো না এবং কবরের দিকে সালাত আদায় করো না (মুসলিম , মিশকাত হা/১৬৯৮)

সূরা বাকারাহ-১১৯ নং আয়াতের তাফসীর


প্রশ্নঃ       সূরা বাকারাহ-১১৯ নং আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে জানিয়ে বাধিত করবেন

উত্তরঃ      অনুবাদঃ-আমি আপনাকে সুসংবাদ দানকার এবং সতর্ককারী হিসাবে প্রেরণ করেছি এবং আপনি জাহান্নামীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না (বাক্বারাহ-১১৯) অর্থাৎ সুসংবাদ প্রদান এবং সাবধান করার পরে তারা যে কুফুরী করেছে এবং তারা যে জাহান্নামী হয়েছে , এজন্য আপনাকে ধরা হবে না
উল্লেখ্য যে , উক্ত আয়াতে লা-তুসআলু শব্দটিকে কেউ কেউ লা-তাসআলু পড়েছেন অর্থাৎ আপনি জাহান্নামীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন না অর্থাৎ আপনার সাবধান করার পরে তারা যে কুফুর করেছে , আর সে কারণেই তারা জাহান্নামী অতএব তাদের অবস্থা সম্পর্কে আপনার জানার প্রয়োজন নেই (তাফসীরে কুরতুবী)
উল্লেখ্য , রাসূল (সাঃ) এর পিতা-মাতার সাথে সম্পৃক্ত করে উক্ত আয়াতের যে শানে নুযুল প্রচলিত আছে তা সঠিক নয় (তাফসীরে বাগাবী , তাহক্বীক্বঃ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আন নামর দ্রঃ উক্ত আয়াতের টিকা )

দ্বিতীয় রাকা‘আতের ক্বিরাআত লম্বা


প্রশ্নঃ       সূরা ফাতিহা পড়ার পর কয়টি আয়াত পড়তে হবে ? প্রথম রাকাআতের পর দ্বিতীয় রাকাআতের ক্বিরাআত লম্বা হলে সমস্যা হবে কি ?

উত্তরঃ      সূরা ফাতিহার পর নির্দিষ্ট করে কত আয়াত পড়তে হবে তা কোন সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়নি তবে রাসূল (সাঃ) যতটুকু সম্ভব ততটুকু পড়তে নির্দেশ দান করেছেন (সহীহ আবু দাউদ হা/৮৫৬ ,সনদ সহীহ) তাই কখনও ছোট আবার কখনও বড় সূরা তেলাওয়াত করা যাবে রাসূল (সাঃ) প্রথম রাকাআত দ্বিতীয় রাকাআতের চেয়ে বেশী দীর্ঘ করতেন মর্মে সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে (বুখারী হা/৭৫৯ , ৭৭৬ , ৭৭৯ ; মুসলিম হা/৪৫১) অতএব সর্বদা এরুপই হওয়া সুন্নাত তবে কখনো দ্বিতীয় রাকাআতে ক্বিরাআত লম্বা হয়ে গেলে তাতে কোন সমস্যা হবে না (সিফাতু সালাতিন্নাবী-১৩০)

পানি থাকা অবস্থায় কুলুখ নেওয়া যাবে কি ?


প্রশ্নঃ       তালিমী বৈঠকের নামে কিছু সংখক মহিলা বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে মেয়েদের বলে , পেশাব-পায়খানা করার পর ঢিলা-কুলুখ না নিলে পবিত্র হওয়া যাবে না এবং সালাতও হবে না পানি থাকা অবস্থায় কুলুখ নেওয়া যাবে কি ?

উত্তরঃ      রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কুলুখ ও পানি একত্রে ব্যবহার করেছেন মর্মে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না তিনি কখনো কেবল পানি ব্যবহার করেছেন (মুত্তাফক্ব আলাইহ , আবু দাউদ , মিশকাত হা/৩৪২ , ৩৬০ টয়লেটের শিষ্টাচার অনুচ্ছেদ) কখনো বেজোড় সংখক কুলুখ ব্যবহার করেছেন (বুখারী হা/১৫৫-৫৬ ওযু অধ্যায় কুলুখ ব্যবহার অনুচ্ছেদ ২০ ,২১) ওযু শেষে তিনি কিছু পানি লজ্জাস্থান বরাবর ছিটিয়ে দিতেন (আহমাদ , আবু দাউদ , মিশকাত হা/৩৬১ ,৩৬৬) এটি ছিল সন্দেহ দূর করার জন্য এর চেয়ে বেশী কিছু করা বাড়াবাড়ি মাত্র
উল্লেখ্য , ঢিলা ব্যবহার করার পর পানি নেওয়ার যে বর্ণনা প্রচলিত আছে তা ভিত্তিহীন (ইরইয়াউল গালীল হা/৪২ ; সিলসিলাহ যঈফাহ হা/১০৩১)

উক্ত কথা কি সঠিক ?


প্রশ্নঃ       দিগন্ত টেলিভিশনে জনৈক আলেম বলেন , ঈদের তাকবীর ১২ এবং ৬ উভয়ের পক্ষে সহীহ হাদীস আছে সুতরাং যে কোন একটি আদায় করলেই হবে উক্ত কথা কি সঠিক ?

উত্তরঃ      ছয় শব্দটির উল্লেখ করে সহীহ , যঈফ ও জাল সনদে রাসূল (সাঃ) থেকে একটি হাদীসও দুনিয়ার কোন আলেমের পক্ষে দেখানো সম্ভব নয় যেহেতু রাসূল (সাঃ) হতে বার তাকবীরের সহীহ হাদীস রয়েছে , সেহেতু তার বিপরীতে কোন আমল গ্রহণযোগ্য নয় (সহীহ আবু দাউদ হা/১১৪৯ ; সহীহ তিরমিযী হা/৫৩৬)