বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

নবী ও রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য কী?


প্রশ্ন  : নবী ও রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য কী? তাঁদের সংখ্যা কত? তাঁদের উপর কতখানা কিতাব নাযিল হয়েছিল?

উত্তর: নবী এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য হ
ল, আল্লাহ তাআলা যাকে নতুন শরীআত দিয়ে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট পাঠান তাঁকে রাসূল বলা হয়।  আর যাকে নতুন শরীআত না দিয়ে পূর্বের রাসূলের শরীআতই প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে পাঠান তাঁকে নবী বলা হয় (আলোচনা দ্রঃ সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬৬৮, ৬/১৬৭ পৃঃ)। প্রত্যেক নবী রাসূল নন। তবে প্রত্যেক রাসূলই নবী।
নবী ও রাসূলের সংখ্যা বিষয়ে আল্লাহ তা
আলা বলেন, আমি আপনার নিকট ইতিপূর্বে বহু রাসূলের কথা বর্ণনা করেছি এবং অনেক রাসূলের কথা আপনাকে বলিনি (নিসা ১৬৪)। তবে একটি প্রশ্নের জবাবে রাসূল (ছাঃ) বলেন, নবীগণের সংখ্যা হল, ১,২৪,০০০। তার মধ্যে ৩১৩ জন, অন্য বর্ণনায় ৩১৫ জন রাসূল (আহমাদ, সনদ হাসান, আলোচনা দ্রঃ সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬৬৮; ফাৎহুলবারী ১০/১০৪; মিশকাত হা/৫৭৩৭)। চারজন রাসূলের উপর চারটি প্রধান কিতাব নাযিল হয়েছে। মূসা (আঃ)-এর উপরে তাওরাত, দাঊদ (আঃ)-এর উপরে যাবূর, ঈসা (আঃ)-এর উপরে ইনজীল এবং মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উপরে কুরআন। কোন কোন নবী ও রাসূলের উপর ছহীফা (পুস্তিকা) আকারে কিতাব নাযিল হয়েছে (আলা ১৯)

ছালাতে ইমাম ভুল করলে এবং মুক্তাদী লোকমা না দিলে


প্রশ্ন  : ছালাতে ইমাম ভুল করলে এবং মুক্তাদী লোকমা না দিলে ছালাত শেষে কি সহো সিজদা দিতে হবে? না ছালাত ফিরিয়ে পড়তে হবে?

উত্তর : ছালাতে ইমাম ভুল করলে মুক্তাদীরা লোকমা দিবে (আবুদাঊদ হা/৯০৭)। যদি ক্বিরাআতে ভুল হয় তাহলে সহো সিজদা দেওয়া লাগবে না (আবুদাঊদ হা/৯০৮; নায়লুল আওত্বার ২/৩৭২)। তবে রাক
আত গণনায় ভুল হলে ঐ রাকআত পুনরায় পড়ে সহো সিজদা দিতে হবে। রাকআতের ব্যাপারে সন্দেহ হলে কম সংখ্যাকে ধরে নিয়ে বাকী ছালাত আদায় করে সহো সিজদা দিতে হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১০১৭)। প্রথম তাশাহ্হুদে বসতে ভুলে গেলে এবং সালাম ফিরিয়ে দিলে পরে দুইটি সহো সিজদা দিবে এবং সালাম ফিরাবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১০১৮)

কবরে নবী-রাসূল, ছাহাবায়ে কেরাম, পীর-আওলিয়া


প্রশ্ন  : ইসলামী সম্মেলনে জনৈক বক্তা বলেন, কবরে নবী-রাসূল, ছাহাবায়ে কেরাম, পীর-আওলিয়াদের লাশ অক্ষত থাকে। তাঁদের লাশ মাটিতে খায় না। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?

উত্তর : মুমিনদের মৃত্যুর পর তাদের রূহ আসমানে চলে যায় এবং শরীর মাটিতে খেয়ে নেয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আদমের সকল সন্তানকে মাটিতে খেয়ে নিবে শুধু তার মেরুদন্ডের সর্বনিম্ন হাড্ডি (
عَجْبُ الذَّنَبِ) ব্যতীত। কারণ তা থেকেই তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তা থেকেই তাদের দেহ পুনর্গঠন করা হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫২১)
কিন্তু নবী-রাসূলের লাশ অক্ষত থাকবে। মাটিতে খাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন,
إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূলদের লাশ খাওয়া মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন (ছহীহ আবুদাউদ হা/৯৬২; ইবনে মাজাহ হা/১০৮৫; মিশকাত হা/১৩৬১, ৬৬ জুম অধ্যায়)। তাঁরা ব্যতীত অন্য কারো লাশ মাটিতে খাবে না বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। হতে পারে কারো লাশ দ্রুত খাবে, কার দেরিতে। অনেকের লাশ বহুদিন পরেও স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া যায়। এটা সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন। উল্লেখ্য যে, ফেরাঊনের লাশকে আল্লাহ তাআলা মানুষের উপদেশ গ্রহণের জন্য ক্বিয়ামত পর্যন্তত অক্ষুণ্ণ রাখবেন (ইউনুস ৯২)

আমাদের এলাকায় কোন ধনাঢ্য ব্যক্তি মারা গেলে


প্রশ্ন  : আমাদের এলাকায় কোন ধনাঢ্য ব্যক্তি মারা গেলে দাফনের আগে গরু-খাসী যবহ করে জনসাধারণকে খাওয়ানো হয়। অতঃপর দাফন করা হয়। শরীআতে এ ধরনের কোন বিধান আছে কি? উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করা ও সেই খানা খাওয়া যাবে কি?

উত্তর : মৃত ব্যক্তির দাফনের পূর্বে ও পরে এ ধরনের সকল অনুষ্ঠান বিদ
আত, যা অবশ্য বর্জনীয়। ইসলামের সোনালী যুগে এসবের কোন প্রমাণ নেই। বরং জাহেলী যুগে দানশীল ও নেককার ব্যক্তিদের কবরের পাশে গরু-ছাগল-মোরগ ইত্যাদি যবহ করা হত। ইসলাম আসার পরে এগুলি নিষিদ্ধ করা হয় (আবুদাঊদ হা/৩২২২; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ১৯৪)। বরং এ সময় সুন্নাত হল মৃতের পরিবারকে খাদ্য সরবরাহ করা। কারণ জাফর বিন আবু তালিব (রাঃ) শহীদ হলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তোমরা জাফর-এর পরিবারের জন্য খাদ্য প্রস্তুত কর। কারণ তারা এখন শোকাহত (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত হা/১৭৩৯ মৃতের উপর ক্রন্দন অনুচ্ছেদ)

মহিলারা পর্দার মধ্যে থেকে চাকুরী করতে পারবে কি?


প্রশ্ন  : মহিলারা পর্দার মধ্যে থেকে চাকুরী করতে পারবে কি? প্রয়োজনে তারা মাঠে যেতে পারবে কি?

উত্তর : বাড়ীতে অবস্থান করাই মহিলাদের কর্তব্য (আহযাব ৩৩)। বের হলেই শয়তান তাদের পিছু নিবে (ছহীহ তিরমিযী হা/১১৭৩; মিশকাত হা/৩১০৯)। তবে প্রয়োজনে বের হলে নিরাপত্তার সাথে পর্দা সহ বের হবে। অর্থাৎ শর্তসাপেক্ষে বাইরে যেতে পারবে এবং চাকুরীও করতে পারবে। যেমন, (১) জীবিকার জন্য কাজ করতে বাধ্য হলে (২) বাড়ির মধ্যেই কাজ করা যায় এরূপ কোন কাজ না পাওয়া গেলে (৩) সার্বক্ষণিক পর্দার মধ্যে থাকতে হবে (৪) কাজটা যেন ইসলাম বিরোধী না হয় (৫) কাজটি মহিলাদের কাজের উপযোগী হলে (৬) স্বামী, সন্তান এবং গৃহের ব্যাপারে অবহেলা সৃষ্টি না হলে। (৭) কর্মক্ষেত্র যদি সফরের পর্যায়ে পড়ে, তাহলে মাহরাম ছাড়া না যাওয়া। (৮) কাজটি যেন পুরুষদের সাথে মিলিতভাবে না হয় অর্থাৎ কর্মস্থানটি যেন শুধু মহিলাদের হয়।
উল্লেখ্য, এসব শর্তের দ্বারা মহিলাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।