বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১১

ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থের ৭৪ এবং ১১৬ নং হাদীছের অনুবাদ জানতে চাই।


প্রশ্ন  : ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থের ৭৪ এবং ১১৬ নং হাদীছের অনুবাদ জানতে চাই।

উত্তর : (১) আয়েশা (রাঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আয়নায় মুখ দেখতেন তখন বলতেন,
اللهم كَمَاَحَسَّنْتَ خَلْقِى فَحَسِّنْ خُلُقِى হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যেমন সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন, তেমনি আমার চরিত্রকেও সুন্দর করুন (ইরওয়াউল গালীল হা/৭৪)
উল্লেখ্য যে,
ওয়া হার্রিম ওয়াজহী আলান নার মর্মে বাড়তি অংশ যোগ করার কোন ছহীহ হাদীছ নেই (ইরওয়াউল গালীল হা/৭৪)
(২) আবু আইয়ূব আনছারী এবং উম্মে হাবীবা (রাঃ) হ
তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করবে সে যেন ওযূ করে (আহমাদ, ইরওয়া হা/১১৬, ১১৭; মিশকাত হা/৩৯০)
উক্ত হাদীছে ওযূ বিনষ্ট হওয়ার কথা এসেছে। কিন্তু অন্য হাদীছে এসেছে যে, এটা শরীরের একটি অংশ মাত্র। যা স্পর্শ করলে ওযূ নষ্ট হবে না (আবুদাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৩২০)
উভয় ছহীহ হাদীছের সমন্বয় এই যে, যৌন উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করলে ওযূ ভঙ্গ হবে, নইলে নয় (টীকা দ্রঃ মিশকাত হা/৩২০)

কোন বিধর্মী লোক সালাম দিলে তার জবাবে কি বলতে হবে?


প্রশ্ন  : কোন বিধর্মী লোক সালাম দিলে তার জবাবে কি বলতে হবে?

উত্তর : কোন বিধর্মী লোক সালাম দিলে উত্তরে শুধু
ওয়া আলাইকা (وَعَلَيْكَ ) অথবা ওয়া আলাইকুম (وَعَلَيْكُمْ ) বলবে (বুখারী, মিশকাত হা/৪৬৩৬-৩৭)

ঈদের ছালাতের দু’একদিন আগে ফিৎরা বণ্টন করা যাবে কি?


প্রশ্ন  : ঈদের ছালাতের দুএকদিন আগে ফিৎরা বণ্টন করা যাবে কি?

উত্তর : ঈদের ছালাতের আগে ফিৎরা বণ্টন করার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং পরে বণ্টনের প্রমাণ পাওয়া যায় (বুখারী, মিশকাত হা/২১২৩)। তবে ঈদের ছালাতের পূর্বে দায়িত্বশীলের কাছে ফিৎরা জমা করা ওয়াজিব (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৮১৫)। উল্লেখ্য যে, অনেকে হাদীছে উল্লেখিত
আদায় করা শব্দের অর্থ করেন বন্টন করা। বরং তা হবে জমা করা। যেমন- 
عن نافع أن ابن عمر كان يبعث زكاة الفطر إلى الذي يجمع عنده قبل الفطر بيومين.
ইবনু ওমর (রাঃ) ঈদের দুই বা একদিন আগে জমাকারীর কাছে ফিৎরা পাঠাতেন (মালেক হা/৩৪৩; ইবনু খুযায়মাহ হা/২৩৯৭, সনদ ছহীহ)। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন,
قلت وهذا يبين أن قوله في رواية البخاري للذين يقبلونها ليس المراد به الفقراء بل الجباة الذين ينصبهم الإمام لجمع صدقة الفطر ويؤيد ذلك ما وقع في رواية ابن خزيمة.
  (ইরওয়াউল গালীল ৩/৩৩৫ পৃঃ)। ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ)ও একই কথা উল্লেখ করেছেন (বিস্তারিত দ্রঃ ফাৎহুল বারী ৩/৪৩৯-৪০, হা/১৫১১-এর ব্যাখ্যা)
যারা মনে করেন ঈদের ছালাতের পূর্বে বণ্টন করা হ
লে গরীবদের সুবিধা হবে। কিন্তু উক্ত মর্মে যে কয়েকটি বর্ণনা এসেছে তা গ্রহণযোগ্য নয় (ইরওয়াউল গালীল হা/৮৪৪, ৩/৩৩২)। উল্লেখ্য যে, ফিৎরা হল জানের ছাদাক্বা, মালের ছাদাক্বা নয়। ঈদের দিন সকালেও যদি কেউ মৃত্যুবরণ করেন, তার জন্য ফিৎরা আদায় করা ফরয নয়। আবার ঈদের দিন সকালে কোন বাচ্চা জন্ম নিলে তার পক্ষে ফিৎরা আদায় করতে হবে (দ্রঃ মিরআত ৬/১৮৫)

সূরা ইবরাহীমের ২৪ নং আয়াতের তাফসীর জানিয়ে বাধিত করবেন।


প্রশ্ন  : সূরা ইবরাহীমের ২৪ নং আয়াতের তাফসীর জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : অনুবাদ :
আপনি কি দেখেননি আল্লাহ কিভাবে উপমা দিয়ে থাকেন? পবিত্র বাক্যের তুলনা উৎকৃষ্ট বৃক্ষের মত, যার মূল সুদৃঢ় ও শাখা-প্রশাখা ঊর্ধ্বে বিস্তৃত (ইবরাহীম ২৪)
অত্র আয়াতে বর্ণিত
كَلِمَةً طَيِّبَةً অর্থ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ (তাফসীর ইবনে কাছীর, উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা)। যা মুমিন নারী-পুরুষের হৃদয়ে পবিত্র বৃক্ষের কান্ডের ন্যায় প্রোথিত থাকে। আর তার শাখা হিসাবে সৎ কর্ম সমূহ আসমানের দিকে উত্থিত হয়। যেমন একটি খেজুর বৃক্ষ।
উল্লেখ্য যে, অনেকে মনে করেন,
লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ কালেমা ত্বাইয়েবাহ। আসলে তা কালেমায়ে শাহাদাত বা কালেমাতুত তাক্বওয়া (ছহীহ ইবনে হিববান হা/২১৮, সনদ ছহীহ)। অত্র আয়াত ও পরবর্তী আয়াতের মাধ্যমে তাওহীদী আক্বীদা ও কুফরী আক্বীদার ব্যবহারিক ফলাফল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১১

আহাদনামা ও সাত সালাম নামে কোন আমল আছে কি?


প্রশ্ন  : আহাদনামা ও সাত সালাম নামে কোন আমল আছে কি? রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি কুরআনের সাতটি হা-মীম পড়বে তার জন্য জাহান্নামের সাতটি দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। এ সম্পর্কে ছহীহ দলীল জানাতে চাই।

উত্তর : প্রশ্নে উল্লিখিত বক্তব্য বানাওয়াট। উক্ত মর্মে কোন ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না। সূরা হা-মীম সাজদাহর ফযীলত সম্পর্কে যে সমস্ত বর্ণনা এসেছে সবই যঈফ ও জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/৫১১২; যঈফ তিরমিযী হা/২৮৭৯, ২৮৮৮, ২৮৮৯; মিশকাত হা/২১৪৪, ৪৯, ৫০)