বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১১

সূরা বাক্বারাহ শেষে আমরা ‘আমীন’ বলে থাকি।


প্রশ্ন  : ছালাতের মধ্যে সূরা বাক্বারাহ শেষে আমরা আমীন বলে থাকি। এর দলীল জানতে চাই।

উত্তর : সূরা বাক্বারাহ শেষে
আমীন বলার পক্ষে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীন থেকে কোন দলীল পাওয়া যায় না। তবে ছাহাবী মুআয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে মওকূফ সূত্রে একটি বর্ণনা পাওয়া যায় (তাফসীর ইবনে কাছীর, ২৮৬ আয়াত)। এর বর্ণনাকারী আবু ইসহাক্ব ও ছাহাবী মুআযের মধ্যে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি থাকায় সনদ মুনক্বাতি অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ‘যঈফ’ (ঐ, মুহাক্কিক্ব)

মৃতকে দাফন করে যখন লোকেরা চলে আসে তখন ঐ ব্যক্তি


প্রশ্ন  : ছহীহ বুখারীর হাদীছে রয়েছে যে, মৃতকে দাফন করে যখন লোকেরা চলে আসে তখন ঐ ব্যক্তি মানুষের পায়ের জুতার শব্দ শুনতে পায়। কিন্তু আল্লাহ বলেন, তুমি কবরবাসীকে কিছু শুনাতে পার না (ফাতির ২২)। এর সমাধান কী?
 
উত্তর : এর সমাধান সুরা ফাতিরে ঐ আয়াতের প্রথমাংশে রয়েছে : আল্লাহ তা
আলা বলেন: إِنَّ اللَّهَ يُسْمِعُ مَنْ يَشَاءُ وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَنْ فِي الْقُبُورِ  আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে শ্রবণ করান। কিন্তু তুমি কবরবাসীকে শুনাতে সক্ষম নও (ফাতির ২২)। অতএব হাদীছে কবরস্থ ব্যক্তির জুতার আওয়ায শোনার যে বক্তব্য এসেছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১২৬), তা শুনানোর এখতিয়ার একমাত্র আল্লাহর এবং তিনি যখন চান তখন শুনান। অতএব অন্য কেউ তার ইচ্ছা ব্যতীত যেমন শুনাতে পারবে না, তেমনি তিনি কখন শুনাবেন সেটিও কেউ জানে না ।

জিন ও মানুষের জান কবয করেন মালাকুল মউত।


প্রশ্ন  : জিন ও মানুষের জান কবয করেন মালাকুল মউত। কিন্তু অন্যান্য জীব জন্তুর জান কে কবয করেন?

উত্তর : অনুরূপ একটি প্রশ্নের জওয়াবে ইমাম মালেক (রহঃ) প্রশ্নকারীকে জিজ্ঞেস করেন, তাদের কি প্রাণ আছে? প্রশ্নকারী বলেন, আছে। তখন ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, মালাকুল মউত তাদের জান কবয করে। কেননা আল্লাহ বলেন,
اللهُ يَتَوَفَّى الْأَنفُسَ حِيْنَ مَوْتِهَا আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় (যুমার ৩৯/৪২; কুরতুবী, তাফসীর সূরা সাজদাহ ১১)। অন্য আয়াতে এর ব্যাখ্যা এসেছে, تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا তার প্রাণ হরণ করে আমাদের প্রেরিত দূতগণ (আন‘আম ৬/৬১)। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ফেরেশতাগণের মধ্যে মালাকুল মউতের বহু সাহায্যকারী (أعوان) রয়েছে। যারা দেহ থেকে রূহ বের করে আনে। অতঃপর হলকূমের কাছে এলে মালাকুল মউত তা কবয করে (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা আন‘আম ৬২)। আল্লাহ বলেন, হে রাসূল! আপনি বলে দিন যে, মালাকুল মউত তোমাদের জান কবয করে থাকে। যাকে তোমাদের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে। অতঃপর তোমরা সকলে তোমাদের পালনকর্তার নিকট ফিরে আসবে (সাজদাহ ৩২/১১)। এখানে সেরা সৃষ্টি হিসাবে মানুষকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্য সকল সৃষ্টি শামিল রয়েছে। মালাকুল মউত আযরাঈল একক ফেরেশতা হলেও তার সাহায্যকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহ বলেন, فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمْ الْمَلَائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ- তাদের অবস্থা কেমন হবে যখন ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করবে... (মুহাম্মাদ ৪৭/২৭)। আল্লাহ ফেরেশতাদের অসীম ক্ষমতা দান করেছেন, যা মানুষের ক্ষমতার সঙ্গে তুলনীয় নয়। তারা আল্লাহর কখনো অবাধ্যতা করেন না এবং সর্বদা তাঁর হুকুম পালনে প্রস্তুত থাকেন (তাহরীম ৬৬/৬)। মালাকুল মউত অন্যান্য প্রাণীর জান কবয করেন না বলে যে বর্ণনা রয়েছে তা মওযূ বা জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/১৬৯৩)

অজ্ঞাত কোন মহিলার লাশ নদীতে বা সীমান্ত এলাকায় পাওয়া গেলে


প্রশ্ন  : অজ্ঞাত কোন মহিলার লাশ নদীতে বা সীমান্ত এলাকায় পাওয়া গেলে তার জানাযা পড়া যাবে কি?

উত্তর : মুসলিম প্রমাণিত না হ
লে তার জানাযা করা যাবে না। এমন লাশকে বিনা জানাযায় স্বাভাবিকভাবে দাফন করতে হবে। হযরত আলী তাঁর পিতা আবু তালেবকে তার মৃত্যুর পর রাসূল (ছাঃ)-এর হুকুমে এভাবেই দাফন করেছিলেন (আবুদাঊদ হা/৩২১৪)

তাসবীহ দানা দ্বারা তাসবীহ গণনা করলে কোন নেকী হবে না


প্রশ্ন  : মসজিদের ইমাম বলেন, তাসবীহ দানা দ্বারা তাসবীহ গণনা করলে কোন নেকী হবে না বরং গোনাহ হবে। সুন্নাত হল আঙ্গুলে তাসবীহ গণনা করা। এ বিষয়ে জানতে চাই।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আঙ্গুলে তাসবীহ গণনার জন্য আদেশ করেছেন। কেননা ক্বিয়ামতের দিন আঙ্গুলগুলো জিজ্ঞাসিত হবে এবং তারা কথা বলবে (আবুদাঊদ হা/১৫০১; তিরমিযী হা/৩৪৮৬, সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/২৩১৬)। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে ডান হাতে তাসবীহ গননা করতে দেখেছি (বায়হাক্বী ২/১৮৭; আবুদাঊদ হা/১৫০২)। উল্লেখ্য, দানা বা কংকর দ্বারা তাসবীহ গণনা করার বর্ণনা যঈফ (আবুদাঊদ হা/১৫০০; তিরমিযী হা/৩৫৬৮; মিশকাত হা/২৩১১; সিলসিলা যঈফাহ হা/৮৩)